ভারতে নিরাপত্তা বাড়লো মেঘা পানসারে, হামিদ দাভোলকার, মুক্তা দাভোলকারের, হিটলিস্টে বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব গীরিশ কারনাডসহ অন্যান্যদের নাম

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে বাড়ির সামনে খুন হয়েছিলেন কমিউনিস্ট ও যুক্তিবাদী আন্দোলনের নেতা গোবিন্দ পানসারে। গোবিন্দ পানসারেকে হত্যার পর থেকেই মেঘা পানসারের জীবনের উপর আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল। একইভাবে এই আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল হামিদ দাভোলকারের জীবনের উপরও।

গোবিন্দের পুত্রবধূ মেঘা পানসারে বলছিলেন, ‘‘খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ধৃত দু’জনের এক জন জেলে, অন্য জন জামিনে মুক্ত।সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে আইনি লড়াই লড়ছি। নরেন্দ্র দাভোলকর, গোবিন্দ পানসারে আর রমেশ কালবূর্গির তিনটে হত্যা মামলা একসঙ্গে করে বিচারের আর্জি জানিয়েছিলাম। যে হেতু খুনের ধরন একই রকম। এক রাজ্যে বিজেপি, অন্য রাজ্যে কংগ্রেসের সরকার। দুই মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই একাধিক বার দরবার করেছি। বিচার এখনও পেলাম না। তার মধ্যেই সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ খুন হয়ে গেলেন।’’

গত বছর প্রতিক্রিয়ায় মেঘা পানসারে গৌরী লঙ্কেশকে হিংসাত্মকভাবে খুন করা হয়েছে। ঠিক যেমনভাবে খুন করা হয়েছিল আমার শ্বশুরমশাই, কমরেড গোবিন্দ পানসারেকে। গৌরী লঙ্কেশের খুনের খবর একটা কথাই মনে করালো, এই খুন সংবেদনশীল, যুক্তিবাদী স্বাধীন কন্ঠগুলিকে চুপ করিয়ে দেওয়ার আরও একটি প্রচেষ্টা। দেশের সাহসী সাংবাদিকদের মুক্ত কন্ঠকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা এই খুনগুলি। গৌরীও ছিলেন এমনই মুক্ত, স্বাধীন কন্ঠের অধিকারী। তিনি সাহসের সঙ্গে সাংবাদিকতা করতেন। হিন্দু দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে গৌরীকে বারে বারে দেখেছি তিনি স্পষ্টবাক্‌। তাঁকে খুন করার হুমকিকে পরোয়া না করেই নিজের কলম ধরেছেন, পথে নেমে প্রতিবাদ করেছেন। সেই কারণেই অধ্যাপক দাভোলকার, পানসারে এবং কালবুর্গিদের খুনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অগ্রণী প্রতিবাদী কন্ঠ। বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদের সামনে দাঁড়িয়েই লড়াই করেছেন। হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে তাঁর লেখা ছিল চাঁচাছোলা।

১৭ই আগস্ট এ প্রাপ্ত খবর অনুসারে, মহারাষ্ট্রের রাজ্য গোয়েন্দাবিভাগ খবর পেয়েছে হামলা হতে পারে মেঘা পানসারে, হামিদ দাভোলকার এবং তাঁর বোন মুক্তা দাভোলকারের উপর।

সাংবাদিক গৌরি লঙ্কেশের হত্যার ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে ধৃতদের জেরা করে এমন তথ্যই পেয়েছেন গোয়েন্দারা। সেই কারণে এই তিনজনের নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। এই তিনজনই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির পরবর্তী লক্ষ্য বলে ওই ধৃতদের কাছ থেকে জানা গেছে। শুক্রবার একটি সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ তদন্তকারী দলের উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই তিনজনকে সারাক্ষণ নিরাপত্তার বেষ্টণীতে ঘিরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে । উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি লঙ্কেশকে ছাড়াও হত্যা করেছে গোবিন্দ পানসারে, নরেন্দ্র দাভোলকারের মতো ধর্মনিরপেক্ষ, যুক্তিবাদীদের।

উল্লেখ্য,হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে গিরিশ কারনাডের কঠোর অবস্থান সম্পর্কে সকলেই অবহিত। একইরকম ভাবে ললিতা নায়েক বা বীরভদ্র চান্নামাল্লা স্বামী এবং যুক্তিবাদী সি এস দ্বারকানাথও হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে সরব থেকেছেন বরাবর। গিরিশ কারনাড ছাড়াও জ্ঞানপীঠ পুরস্কার জয়ী রাজনৈতিক- সাহিত্যিক বি টি ললিতা নায়েক, নিদুমামিডি মঠের প্রধান বীরভদ্র চান্নামাল্লা স্বামী এবং যুক্তিবাদী সি এস দ্বারকানাথ এই তালিকায় ছিলেন বলে তদন্তকারী গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ তদন্তকারী দল সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে যেখানে দেবনাগরীতে লেখা রয়েছে। সেখানে এইসব ব্যক্তিদের নাম লেখা রয়েছে যাঁরা উগ্র হিন্দুত্বের বিরোধী।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − 4 =