ভুটানে তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন -হার্ভার্ড শিক্ষাবিদ শেরিং আবারো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন কি?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

তৃতীয় জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে ‘বজ্র ড্রাগনের ভূমি’ ভুটানে । আজ শনিবার প্রথম দফায় ভোট হয়েছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত ছোট্ট দেশটির ওপর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ভারত ও চীনের প্রভাব  নির্বাচনে বড় ইস্যু ।দেশটির প্রধান বিচারপতি অন্তর্বর্তীকালীন  সরকারের প্রধান। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ভুটানে তিন মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে।

এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই নির্বাচনে হার্ভার্ড থেকে পড়াশোনা করা শেরিং তবগের (৫২) দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আশা রয়েছে। তবে তাঁর দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (পিডিপি) কঠিন লড়াই করতে হবে দ্রুক পুয়েনসাম তসগপা (ডিপিটি) দলের সঙ্গে। ২০০৮ সালে দলটি ভুটানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়।

১৮ অক্টোবর ভুটানে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে। ভুটানে সাধারণত দুই দফায় ভোট হয়ে থাকে। প্রথম দফায় ভোটাররা রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেয়। যে দুই দল প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান পায়, তারা পার্লামেন্টের ৪৭টি আসনে প্রার্থী দেয় এবং তখন দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। এবারের প্রথম দফা ভোটে চারটি দল অংশ নিচ্ছে। সদ্য ক্ষমতা ছাড়া পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) ও প্রথমবার ক্ষমতায় থাকা দ্রুক পুয়েনসাম তসগপা (ডিপিটি) দলের মধ্যে নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বলা হচ্ছে, এই দুটি দলের মধ্যে পিডিপিকে ভারতপন্থী ও ডিপিটি দেশটির ভারতনির্ভরতা কমিয়ে চীনকে কাছে টানতে ইচ্ছুক। গত নির্বাচনে  চীনের প্রতি ভোটারদের আকর্ষণ কমাতে ভুটানে আমদানি করা কেরোসিন ও গ্যাসের ওপর ভর্তুকি বন্ধ করে দেয় ভারত।
সুইজারল্যান্ডের আকৃতির দেশ ভুটানে বাসিন্দা আট লাখ। ১৯৯৯ সালে দেশটিতে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু হয়। ২০০৮ সালে দেশটি গণতন্ত্রে প্রবেশ করে। তাও ভুটানের ‘ড্রাগন রাজারা’ তাঁদের একচ্ছত্র ক্ষমতা সমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর।

আধুনিকায়নের কুফল থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা, গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস নিয়ে লড়াই, কার্বনশূন্য থাকা এবং মৌসুমে পর্যটকপ্রতি মাথাপিছু দৈনিক ফি ২৫০ ডলার নির্ধারণ করে পর্যটকের সংখ্যা কমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে ভুটান।

একজন বিশ্লেষক এএফপিকে বলেছেন, পিডিপি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্ব কমিয়ে অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। দুর্নীতি, গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য, তরুণদের বেকারত্ব এবং অপরাধীদের আধিপত্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ দেশটিতে।

‘দ্য ভুটানিজ ডেইলি’র সম্পাদক তেনজিং লামসাং এএফপিকে বলেন, ‘ আমি মনে করি, ২০০৮ ও ২০১৩-এর প্রধান ইস্যুগুলোই এই নির্বাচনের ইস্যু। অর্থনীতি, গ্রাম উন্নয়ন, অবকাঠামো, কিছু ক্ষেত্রে পর্যটন।’

ভুটান প্রতিবেশী ভারতের ওপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল। চিকিৎসা, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ, আমদানি ও রপ্তানির বাজার, বিশেষ করে ভুটানে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ বিক্রির জন্য ভারতের ওপর নির্ভর করতে হয়। ২০১৩ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ভারত হঠাৎ করে ভুটানে আমদানি করা কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসের ওপর ভর্তুকি তুলে নেয়। ভুটানের তৎকালীন সরকার পরিবর্তনের  জন্য ভারতে এর মাধ্যমে প্রভাব সৃষ্টির  প্রচেষ্টা করে বলে মনে করা হয়েছিল।
নিজেদের ভূখণ্ড দাবি না করলেও ভুটানে ভারতের সামরিক অবস্থান রয়েছে।
ভুটানের ওপর চীনের প্রভাব বাড়তে থাকায় ভারত সতর্ক। ২০১৭ সালে সিকিম-সংলগ্ন এলাকা দোকলামে ভারত ও চীনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেয়।  সেখানের কিছু এলাকা চীন ও ভুটান দুটি দেশই নিজেদের বলে দাবি করে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 5 =