মাছির হামলায় হাতির মৃত্যু!

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মাংসাশী অতিবিপজ্জনক আফ্রিকান মাছির খোঁজ মিলল উত্তর বঙ্গের ডুয়ার্সের জঙ্গলে। সম্প্রতি মৃত একটি হাতির দেহ ময়নাতদন্তের পর বন দফতরের চোখ কপালে ওঠে।

মরা হাতির পেটে আফ্রিকার জঙ্গলের ‘বটফ্লাই’-এর হাজার হাজার লার্ভা দেখে চমকে উঠলেন প্রাণী চিকিৎসক দীপক বার। রোববার সকালে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটার ডায়নার টন্ডুর জঙ্গলে একটি দাঁতাল হাতির দেহ ময়নাতদন্ত করে বটফ্লাইয়ের হদিস মেলে।

পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম আফ্রিকার গহন জঙ্গলে থাকা মাংসাশী বটফ্লাইয়ের উপস্থিতি চোখে পড়ল। এ মাছির হানাতেই বুনো হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মৃত হাতিটিকে রোববার ডুয়ার্সের পানঝোড়ার জঙ্গলে নিয়ে আসা হয় ময়নাতদন্তের জন্য। সোমবার দুপুর থেকেই ময়নাতদন্ত শুরু হয়। মরা হাতিটির দেহ ব্যবচ্ছেদ করতেই সেটির খাদ্যনালী থেকে সারা শরীরে কয়েক হাজার বটফ্লাইয়ের লার্ভা দেখতে

 

মারাত্মক সাশী মাছি 'বটফ্লাই'
মারাত্মক মাংসাশী মাছি ‘বটফ্লাই’ 

পেয়ে চমকে ওঠেন দীপক বার।

জানা যায়, হাতির মুখ দিয়ে খাদ্যনালীতে ঢুকে পড়া এই বিদেশি প্রজাতির মাছির লার্ভা সারা শরীরে বাসা বাঁধতে শুরু করে, আর তার ফলেই ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে চলে যায় হাতিটি।

চিকিৎসক দীপক বার জানিয়েছেন, হাতিটি দীর্ঘ ১২-১৫ দিন কোনো খাবার খায়নি, যার ফলে আরো অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বুনো হাতিটি। এই লার্ভা পরীক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার এবং জলপাইগুড়ির প্রাণীসম্পদ বিকাশ দফতরের আঞ্চলিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

জলপাইগুড়ির বন কর্মকর্তা বিদ্যুৎ সরকার জানান, ভয়ঙ্কর মাংসাশী বটফ্লাই মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা, কঙ্গো, মোজাম্বিক ও ঘানা এবং এশিয়ায় শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে দেখা যায়। এর আগে জলপাইগুড়ির ধুপঝোড়ার কুনকি হাতি রাজার দাঁতে এই প্রজাতির মাছির উপস্থিতি পাওয়া যায়, যদিও প্রাথমিক অবস্থাতেই তার অসুস্থতা ধরা পড়ায় চিকিৎসায় সে সেরে ওঠে।

আফ্রিকার এই ভয়াবহ বটফ্লাই এখন পশ্চিমবঙ্গ তথা সংলগ্ন বাংলাদেশের বনাঞ্চলে মহামারী ডেকে আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা ব্যক্ত করেছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five + 12 =