মাতৃভাষার বিকৃতি রোধে সবাই সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষার বিকৃতি রোধে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিষ্ঠানটি হবে সারা বিশ্বের মাতৃভাষা চর্চার, মাতৃভাষা গবেষণা করার পাদপীঠ।

তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান যাতে কেউ বন্ধ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করেছি। এ প্রতিষ্ঠানটা যাতে ভালোভাবে কার্যক্রম চালাতে পারে,  সে ব্যবস্থাও আমরা করেছি। প্রয়োজনীয় ফান্ডের ব্যবস্থাও করবো।“

তিনি অনুষ্ঠানে বিকৃত উচ্চারণে বাংলা শব্দের উচ্চারণকারীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আজকাল একটা সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। বাংলা ভাষা ভুলে যাওয়াটাই যেন একটা বিরাট কাজ। বাংলাকে বিকৃত করে ইংরেজি অ্যাকসেন্টে বাংলা বলাটাকেই কেউ কেউ গৌরবের মনে করেন।“

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভাষার বিকৃতি যেন না হয়, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এ বিষয়ে আরো সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন রয়েছে।“

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার বিকেলে ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান অনুষ্ঠানে ‘২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙালি মননের বাতিঘর’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউনেস্কোর ঢাকা অফিসের প্রধান বিয়াট্রিস কালডুন শুভেচ্ছা বক্তৃতায় ইউনেস্কোর মহাপরিচালক মিজ ইরিনা বুকোভার শুভেচ্ছা বাণী অনুষ্ঠানে পড়ে শোনান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর-অধিদপ্তর এবং স্বায়ত্ত শাসিত প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যবৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কমৃকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two + 11 =