মানবতাবিরোধী,যুদ্ধপরাধের মামলার রায়ে ২ জনকে ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ২ জনকে ফাঁসির আদেশ ও ৩ জনের আমৃত্যু কারাদন্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এ রায় দেয়। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ শেষে গত বছর ২০ নভেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে আদেশ দেয় এ ট্রাইব্যুনাল।।
এ মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে নেসার আলী ও ওজায়ের আহমেদের ফাঁসি এবং শামছুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া ও ইউনুস আহমেদকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন, অন্যরা পলাতক।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধপরাধের মামলায় এটি ট্রাইব্যুনালের ৩০ তম মামলার রায়।  রায়ে বলা হয়, প্রসিকিউশনের আনা পাঁচ অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। মৃত্যুদন্ডের দুই আসামির সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করতে হবে। মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহা-পরিদর্শককে (আইজিপি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা দানু মিয়াকে হত্যাসহ প্রথম অভিযোগে সবাইকে আমৃত্যু কারাদন্ড, ডা. যামিনী মোহনকে অপহরণ করে হত্যাসহ দ্বিতীয় অভিযোগে নেসার, ইউনুস ও ওজায়েরকে আমৃত্যু কারাদন্ড, বাড়ি লুটপাটের তৃতীয় অভিযোগে ইউনুসকে খালাস দিয়ে নেসার ও ওজায়েরকে ৫ বছর করে কারাদন্ড, দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে হত্যায় আনা চতুর্থ অভিযোগে সামছুল, নেসার, ইউনুস, ওজায়ের ও মোবারককে আমৃত্যু কারাদন্ড এবং হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং গণহত্যার অভিযোগে নেসার ও ওজায়েরকে ফাঁসি বাকি তিনজনকে আমৃত্যু কারাদন্ড দেয়া হয়।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন বলেন, আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন। এ রায়ে প্রসিকিউশন সন্তুষ্ট। আটক আসামী ইউনুছ ও ওজায়ের রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর আসামি ইউনুছ আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিধান অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের মামলায় রায়ের এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। তবে পলাতক আসামিদের সে সুযোগ নিতে হলে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

এ মামলার ২০২ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়া হয়। রায়ের প্রথম অংশ পড়েন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক আবু আহমেদ জমাদার, বিচারপতি আমির হোসেন পড়েন রায়ের দ্বিতীয় অংশ। সবশেষে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সাজা ঘোষণা করেন।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর এ মামলার পাঁচ আসামির বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউশনের আবেদনে ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওইদিন বিকালেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও ইউনুছ আহমদকে তার সোনাটিকি গ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।
মামলায় ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহন শুরু হয়। এ মামলায় আসামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও তাপস কান্তি বল শুনানি করেন। আর ইউনুছের পক্ষে আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার ও ওজায়েরের পক্ষে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 15 =