মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্য ভেনেজুয়েলাতে পুলিশ- কয়েদী সংঘর্ষে মৃত অন্তত ৬৮

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পুলিশ সূত্রে খবর, কারাবোবো পুলিশের সদর দপ্তরের একটি জেলে পুলিশ ও বন্দিদের মধ্যে ভয়ানক সংঘর্ষ শুরু হয়। করা হয় অগ্নিসংযোগ। ফলে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারান অনেকে। আবার দমবন্ধ হয়ে মারা পড়েন বেশ কয়েকজন। ওই ঘটনায় বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দুই মহিলা ও তিন শিশুরও মৃত্যু হয়। গুলির লড়াইয়ে আহত হয়েছেন এক পুলিশকর্মীও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ওই কারাগারের ক্ষমতার থেকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি বন্দি ছিল। ফলে পরিকাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানা রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রায়ই জেল ভেঙে পালানোর চেষ্টা করে বন্দিরা। রোগে মৃত বন্দিদের গণকবর দেওয়া হয় বলেও খবর।

এদিনের ঘটনা বন্দিদের জেল ভেঙে পালানোর চেষ্টা থেকেই ঘটেছে। বেশ কয়েকজন বন্দি জেল ভেঙে পালাতে গেলে তাদের আটকাতে যায় পুলিশ। ফলে কার্যত খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায়। বাকি বন্দিরা জেলের বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ স্টেশনে চড়িয়ে পড়ে আগুন। ছড়িয়ে পড়ে জেলের অন্দরেও। দমকল ও স্থানীয় মানুষ আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এমনকি জেল ভেঙে কয়েকজনকে উদ্ধারও করা হয়। তবে ততক্ষণে নিহত হয়েছেন প্রায় ৬৮ জন। আহতদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে ক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন ‘আ উইন্ডো অন ফ্রিডম’ নাম একটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান।

কারাবোবো শহরের গভর্নর রাফায়েল লাকাভা ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তবে মৃতের সংখ্যা সরকারিভাবে ঘোষণা করেননি তিনি। টুইট করে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। সেখানে বন্দিদের আত্মীয়দের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, প্রথমে মৃতের সংখ্যা দুই বলে জানায় পুলিশ। পড়ে প্রকাশে আসে আসল ঘটনা। এক মহিলা জানান, এক সপ্তাহ আগেই এই জেলে আনা হয় তাঁর ছেলেকে। বিচারাধীন বন্দি সে। এখনও তাঁর অপরাধ প্রমাণ হয়নি। তিনি জানেন না তাঁর ছেলে কি জীবিত না মৃত। তবে ভেনেজুয়েলায় এই ঘটনা প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৭ সালে পুলিশ ও কয়েদিদের সংঘর্ষে মৃত্য হয় ৩৭ জনের। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই বছর প্রাণ হারান প্রায় ৬৫ জন বন্দি।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × three =