”মালাউনের বাচ্চাকে মেরে ফেল-এ দেশ তোদের না”-শ্রীমঙ্গলে এডভোকেট উত্তরা দেব চৌধুরীর উপর হামলা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডস্থ পপুলার ট্রেড সেন্টারে বৃহষ্পতিবার ২৫ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হেলাল তফাদার,তার মেয়ে সানজিদা, দোকানের ম্যানেজার ফয়সল এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে এডভোকেট উত্তরা দেব চৌধুরীকে মারাত্মকভাবে জখম করে ।তিনি শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করেছেন, কিন্তু প্রশাসন নীরব ভুমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেন। এসব ঘটনায় দ্রুত ন্যায় বিচারের উদাহরণ সৃষ্টি করা না গেলে মানুষ ক্রমেই বিচার ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারাবে বলে হতাশা প্রকাশ করেন এডভোকেট উত্তরা দেব চৌধুরী। সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেবার আবেদন জানান সন্ত্রাসী হামলায় আহত উত্তরা দেব চৌধুরী।

উল্লেখ্য উত্তরা দেব চৌধুরী ও তাঁর ভাইয়েরা এই দোকান ঘর ও মার্কেটের মালিক। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই পরিবারের অবদান ইতিহাস স্বীকৃত। এডভোকেট উত্তরা দেবচৌধুরী শ্রীমঙ্গলের এক জমিদার পরিবারের সন্তান । জমিদার স্বর্গীয় রাধানাথ দেব চৌধুরীর পৌত্রী ও স্বর্গীয় ক্ষীরোদ বিহারী দেব চৌধুরীর মেয়ে উত্তরা দেব চৌধুরী। তাঁদের পারিবারিক দানকৃত জমিতে গড়ে উঠেছে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা, শ্রীমঙ্গল কালীবাড়ি, দীনময়ী বালিকা বিদ্যালয়, যা বর্তমানে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চন্দ্রনাথ স্কুল, রাধানাথ প্রাথমিক বিদ্যালয় যা বর্তমানে বিরামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাঁর ভাই সাবেক কমিশনার বাবলা দেব চৌধুরীর নামে বাবলা দেব স্কুল । তাঁদের দান করা সম্পদ ভোগ করে আজ শ্রীমঙ্গলবাসী উপকৃত ও প্রতিষ্ঠিত । এতো কিছু দান করার পরও তাঁদের ভরণপোষণের শেষ সম্বল একাত্তরের ঘাতক দুষ্কৃতিকারীরা কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে স্বর্গীয় ক্ষিরোদ বিহারী দেব চৌধুরীর ছেলে পান্না লাল দেব চৌধুরী টুটুল বলেন, হেলাল তফাদার আমাদের ভাড়াটিয়া নন। ভাড়াটিয়া তার ভাই মুজিব তফাদার। মুজিব প্রবাসে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে তিন মাসের মধ্যে দোকান ছাড়বে বলে যায় এবং ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দেয়।ভাড়াটিয়া মুজিব তফাদার কিছু দিন আগে দেশে এসে  বিভিন্ন জনের কাছে বলেছে ’আমার ভাই হেলাল তফাদার জোর করে দোকান কোঠায় দোকানদারি করছেন।’ পরবর্তীতে ঐ দোকান খালি করার জন্য হেলাল তফাদার আমাদের নিকট মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে । আমার বোন এডভোকেট উত্তরা দেব স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় দোকান ঘরটি খালি করে এবং দোকানে তালা লাগিয়ে দেয় ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হেলাল তফাদার ও তার মেয়ে সানজিদার নেতৃত্বে ১০/১৫ জন অস্ত্রধারী  ভাড়াটে সন্ত্রাসী সহ তালা ভাংচুর করে প্রবেশ করে । খবর পেয়ে উত্তরা দেব চৌধুরী ছুটে গেলে হেলাল তফাদার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে আর চিৎকার করে বলতে থাকে “মালাউনের বাচ্চাকে মেরে ফেল। এ দেশ তোদের না ,তোরা এ দেশে কেন? তাড়াতাড়ি ভারতে পালা। তারপর হামলা করে সকলে মিলে ।

ছোটবেলা থেকে দেখে আসা বাড়িতে বাপ-দাদাদের কাজের লোকদের দ্বারা অতর্কিত হামলায় হতভম্ব হয়ে পড়েন উপস্থিত জনগণ ও উত্তরা দেব চৌধুরী । মারের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি । নাক থেকে ঝরতে থাকে রক্ত, চোখ মুখ রক্ত জমাট কালো হয়ে উঠে। সন্ত্রাসীরা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চায় দোকান ঘরের ভিতরে । উপস্থিত পার্শ্ববর্তী দোকানদার ও অন্যান্য কর্মচারীদের সহযোগিতায় কোন রকমে প্রাণে বেঁচে যান তিনি ।

আহত উত্তরা দেব চৌধুরীকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মৌলভীবাজারে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি মৌলভী বাজার সদর হাসপাতাল (নতুন) এর ৩নং কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিকদের বলেন, নিজের সম্পদ রক্ষা করতে ৬২বৎসর বয়সে দৃস্কৃতিকারীদের মার খেয়ে আমি হাসপাতালে ভর্তি।  তিনি প্রশ্ন করেন আমার উপর হামলার পর ও প্রশাসন, হিন্দু ধর্মীয় সংগঠনগুলো নীরব ভূমিকায় কেন? বাংলাদেশে এতগুলো হিন্দু সংগঠন কিন্তু তারা আমাদের বিপদের সময় যদি কোন কাজে না আসে, তাহলে কি করে হয়? আমি পেশায় একজন আইনজীবি আমার যদি এমন করুণ পরিণতি হয়, তাহলে দেশের সাধারণ হিন্দুদের কী অবস্থা?

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + eleven =