‘মাসিক মানে অপবিত্র নয়’ – ‘মাসিক মেয়েদের লজ্জা নয়’-এবার স্যানিটারী প্যাডে লাহোরের ছাত্রছাত্রীর একাত্ম হয়ে প্রতিবাদ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘মাসিক মানে অপবিত্র নয়’ – ‘মাসিক মেয়েদের লজ্জা নয়’-   এই বাস্তব প্রতিবাদী কন্ঠের ভাষা স্যানিটারি ন্যাপকিনে লিখে তা আটকে দেয়া হলো  লাহোরের বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে। তাঁদের প্রতিবাদকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালের ছবি পোস্ট করা হলো ফেসবুকের দেয়ালেও।মেয়েদের আরো সচেতন করতে এবং মাসিককে ‘লজ্জা’ না ভেবে নারীর স্বাভাবিক জীবনক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ এই দিনগুলো সম্পর্কে  সচেতন এবং সুশিক্ষিত করাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিবাদের  মূল লক্ষ্য।

প্রতি মাসে শরীরের স্বাভাবিক নিয়মেই মাসিক হয় মেয়েদের। কিন্তু ‘সমাজ’ তাঁকে স্বাভাবিক চোখে দেখে না। তথাকথিত ‘সমাজপতি’দের  প্রতিষ্ঠিত চিরাচরিত দাবি মাসের নির্দিষ্ট ক’টি দিন মেয়েদের ‘সমাজ-সভ্যতা’ থেকে ‘সরে’ গিয়ে ‘  নিজেকে লুকিয়ে থাকার দিন’!

যেন-এই ক’টি দিনের ‘অপবিত্রতা’য় কন্যা জায়া জননীর ছায়াও ‘অপবিত্র’! নারী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এ ক’টি দিনে তার ছায়ায় যেন সব ‘অশুচি’ হয়ে যাবে,তাই বাড়ির অন্দরমহল,  নামাজের স্থান বা  পূজোর ঠাকুর ঘর থেকে পিরিয়ডের কয়টি দিন কন্যাদের ‘দূরে থাকার দিন’ (?)! এমন আর চলতে দেয়া যায় না।

আর তাই এই চরম অন্যায় সনাতনি শাস্ত্রাচারের কঠিন  চাপ থেকে বেরিয়ে আসার ডাক দিয়ে প্রতিবাদী কন্ঠে রাস্তায় নেমেছেন লাহোরের বিএনইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল স্যানিটারি ন্যাপকিন সাঁটিয়ে তাতে এভাবেই  প্রতিবাদের ভাষা লিখলেন লাহোরের বেকনহাউস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ।

এক বছর আগে ভারতের জামিয়া মিল্লিয়ার প্রতিবাদের আঁচ গিয়ে পড়েছিল কোলকাতার  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকাশ পায় প্রতিবাদের  অন্য  ব্যক্তিত্ব, অন্য রূপ! এবার সেই ছবি দেখা গেল ভারতের চরম শত্রু এবং প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seven + 15 =