মিরপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও শহরে মোটরসাইকেল, গাড়িতে আগুন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন চলমান ছিল । এর মধ্যে বেলা চারটার দিকে মিরপুর ১৪ নম্বরে তাদের জমায়েত স্থলে পুলিশ এসে হেনস্তা করা শুরু করে। এরপর পুলিশের সঙ্গে পরিচয়পত্র ছাড়া কিছু যুবক এসে শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলে। ধাওয়া দেয়।

শিক্ষার্থীরা তখন মিরপুর ১০ নম্বরে অবস্থান নেয়। তাদের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় যুবকেরা মিলে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তারা পথ ছাড়েনি। সেখানে দেখা যায়, ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে বাধা দিচ্ছিল পুলিশ ও কিছু যুবক। এছাড়াও ঢাকা শহরে বিভিন্ন গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যহত রয়েছে ।

আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের ভাষ্য, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। ভাংচুর বা অগ্নিসংযোগে তারা জড়িত নয়। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে কারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকাল থেকে দিনভর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় অবস্থান নেয় কয়েকশ’ শিক্ষার্থী। এতে নীলক্ষেত থেকে মিরপুর সড়ক ও ধানমণ্ডি এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে সেখানে বায়েজিদ নামে এক ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরসাইকেল আটকে লাইসেন্স দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা। তিনি তা না দিয়ে উল্টো ক্ষিপ্ত হন। এরই একপর্যায়ে তিনি চলে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। পরে তার মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া শাহবাগ এলাকায় একদল যুবককে দোতলা বাস ভাঙতে দেখা যায়। ওই সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাতে বাধাও দেয়। কালো গেঞ্জি পরা এক যুবককে ভাংচুরে অতি তৎপর দেখা যায়। তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে দাবি করেন। তবে নিজের নাম বলেননি। এ নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে বাকবিতণ্ডাও হতে দেখা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ সময় তিনি এ আন্দোলন সহিংসতার দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে ছাত্রদল ও শিবিরের কথোপকথনের অডিও রয়েছে। সেখানে ছাত্রদলকে স্কুল ও কলেজের ড্রেস পরে আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা গেছে।”

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এখন যে পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে একটা দুর্ঘটনা ঘটেই যেতে পারে। একটা সাবোটাজ ঘটে যেতে পারে। সেজন্য তাদেরকে আমরা ফিরে যেতে বলব।

“যদি কিছু ঘটে যায়। এর দায়-দায়িত্ব কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী নিতে পারবে না। কারণ নিরাপত্তা বাহিনী কিন্তু চুপচাপ বসে আছে, আপনারা সবাই লক্ষ্য করেছেন। তারাও (নিরাপত্তা বাহিনী) মার খাচ্ছে, কিন্তু তারা কোনো কিছু করছে না। তারা চরম ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিত মোকাবেলা করছে। এই ঘটনা (স্যাবোটাজ) তাদের অ্যাকশনের আগেই ঘটে যেতে পারে।”

তাই শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে তাদের ঘরে ফিরে যেতে প্রধানমন্ত্রী চাইছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি যথেষ্ট হয়েছে। তারা ফিরে যাবে, এটা আমরা আশা করছি।”

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − eleven =