মিলল গ্রেনেড, সুইসাইডাল ভেস্ট, সাভারের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শুক্রবার রাত থেকে ঢাকার সাভারের মধ্যগ্যান্ডা এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিস। জঙ্গিদের ধরতে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও ঢাকা জেলা পুলিস সাভারের মধ্যগ্যান্ডা এলাকার নির্মীয়মাণ একটি ছ’‌তলা বাড়ি ঘিরে ফেলে। শনিবার বেলা ৩টের সময় এই অভিযান শেষ হয়।

সাভার পৌর এলাকার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের দোতলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’র সন্ধান পেয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দুটি দলসহ ঢাকা জেলা পুলিশের সদস্যরা সেখানে যায়। পরে সেখান থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি, জিহাদি বই ও ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া একটি কক্ষে পরিত্যক্ত ব্যাগ এবং অপর একটি কক্ষ বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

এই অভিযান নিয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার আশরাফুল আজিম জানান, ‘‌জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষ করা হয়েছে। জঙ্গিদের ডেরা থেকে সাতটি গ্রেনেড, তিনটি সুইসাইড ভেস্ট, গ্রেনেড তৈরির কয়েক হাজার ব্যাটারি, সালফিউরিক অ্যাসিড ও গানপাউডার উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ ঢাকা থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। এরপর ওই বাড়িতে অভিযান শুরু করা হয়।’‌

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জঙ্গি আস্তানায় শনিবার সকালে অভিযান শুরুর পর কোনো জঙ্গি সদস্যকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে সাতটি গ্রেনেড ও তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট পাওয়া গেছে। এগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ মে) দুপুর ১২টার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য এনামুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগেও গেন্ডাসহ সাভারের পাঁচটি এলাকায় জঙ্গি ও মাদকবিরোধী সভা করেছি। ওই সভায় সাভারের বাসিন্দাদের আহ্বান করেছি, যেসব বাড়ির দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকে, যারা লোকজনের সঙ্গে মেশে না, তাদের সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। যারা নিজেদের আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে বসবাস করেন, তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিতে বলেছি। তারপরও এখানে জঙ্গি আস্তানা শনাক্ত হয়েছে। এটা দুঃখজনক।’ এসময় স্থানীয়দের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এমপি এনামুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিস অভিযানের আগে সন্দেহপ্রবণ বাড়ির বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মাধ্যমে জঙ্গি আস্তানায় জল ছোড়া হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে  বাড়িটির আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযান চলাকালীন দুপুর ১২.‌১৫ নাগাদ ওই বাড়িতে প্রথম ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর দুপুর ১.‌১০ মিনিট, ১.‌২০ মিনিট, ১.‌২৫ মিনিটে পরপর বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ির মালিক সাকিব আহমেদ অলকে সাভার মডেল থানার পুলিস জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 + 17 =