মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের মরদেহ নিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ। মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১১টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

একাত্তরের এ গেরিলা যোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, মুক্তিযোদ্ধা-গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান, দৈনিক পূর্বদেশ সহযোগী সম্পাদক আবু তাহের মোহাম্মদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, কবি কামরুল হাসান বাদল, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়েনর যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, অর্থ সম্পাদক কাশেম শাহ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমেদ কুতুব, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন, দিরীপ দাশ, সিরাজুল ইসলাম বাবু, সৈয়দ ইকবাল দেওয়ান মাকসুদ, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নগর আওয়ামী লীগ, জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা গবেষণা ট্রাস্ট, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা, চট্টগ্রাম জেলা বাসদ মার্কসবাদী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ,  বাসদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্ট্রান ঐক্য পরিষদ, সমাজ অনুশীলন চট্টগ্রাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ চট্টগ্রাম, জাসদ, গণমুক্তি ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি চট্টগ্রাম, সমাজ সমীক্ষা সংঘ, গণঅধিকার চর্চা কেন্দ্র, গণসংহতি আন্দোলনসহ নানা রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধারা একজন অভিভাবকে হারিয়েছি। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত মানুষ, দেশপ্রেমিক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। প্রচার বিমুখ এই বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে যে শুন্যতা তৈরি হয়েছে সেটি পূরণ করা সম্ভব নয়। জাতি তাকে শ্রদ্ধাভরে আজীবন স্মরণ করবেন।

একুশে পদক প্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক রইসুল হক বাহার ছিলেন একজন খাঁটি ও দেশপ্রেমিক মানুষ। বর্তমান সময়ে এরকম খাঁটি মানুষ পাওয়া দুষ্কর। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। অনেক প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি নিজেকে অনেকটা আড়াল করেই রাখতেন। দেশের জন্য তার অবদান ভুলার নয়। জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবেন তাকে।

পরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven + 8 =