মেয়র আনিসুল হকের জসীমউদ্দীন সড়ক পরিদর্শন:চারটি ‘ইউ’ শেপ গাড়ি পারাপার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ঘোষণা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক শনিবার জসীমউদ্দীন সড়কের মোড় পরিদর্শন করেন। এ সময়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, যানজট নিরসনে প্রাথমিকভাবে বনানী-কাকলী, এয়ারপোর্ট, উত্তরার জসীমউদ্দীন ও আবদুল্লাহপুরের ট্রাফিক মোড়ে চারটি ‘ইউ’ আকৃতির গাড়ি পারাপার সেতু নির্মাণ করার প্রকল্প নিয়েছে ডিএনসিসি।ছুটির দিন উত্তরার রাস্তা কিছুটা ফাঁকা হলেও কর্মদিবসে বিভিন্ন সেক্টরের শাখা সড়কগুলো থেকে শুরু হয় যানজট। সকালে স্কুল ও অফিসের সময়ে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হয় উত্তরাবাসীকে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার যানজট ৫০ শতাংশ কমে যাবেবনানী-কাকলী, এয়ারপোর্ট, উত্তরার জসীমউদ্দীন ও আবদুল্লাহপুরের ট্রাফিক মোড়ে চারটি ‘ইউ’ আকৃতির গাড়ি পারাপার সেতুর প্রকল্প নিয়েছে ডিএনসিসি ।

উত্তরা থেকে বিমানবন্দরের দিকে আসতে গেলে প্রথম বাধা জসীমউদ্দীন সড়কের মোড়। দিনের কোনো না কোনো সময় সেখানে যানজটে পড়তে হয় উত্তরাবাসীকে। জসীমউদ্দীন সড়ক থেকে শুরু হওয়া যানজট চলে যায় বিমানবন্দরের গোলচত্বর পর্যন্ত। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এই সড়কের মোড় হলো উত্তরার বিষফোড়া।
উত্তরা থেকে আসা গাড়িগুলো বের হওয়ার জায়গা কম। আর মহাখালী থেকে আসা গাড়িগুলো ঘুরে যায়। আবার এয়ারপোর্টের দিকেও যানজট থাকে। এ কারণে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে নয়টা পর্যন্ত ভয়াবহ অবস্থা হয়।
দেখা যায়, জসীমউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ে উত্তরা ১ ও ৩ নম্বর সেক্টর থেকে আসা যানবাহনগুলো বিমানবন্দর সড়কে প্রবেশের জন্য সংকেত বাতির সামনে থেমে আছে। পাঁচ মিনিটের সংকেতে কয়েক শ গাড়ির যানজট তৈরি হয়। একই অবস্থা বিমানবন্দর সড়কের দুই পাশের টঙ্গী ও মহাখালী দিক থেকে আসা যানবাহনের। অল্প কিছু সময়ে দুই পাশেই তীব্র যানজট লেগে যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জসীমউদ্দীন মোড়ের দুই পাশে ‘যানবাহন থামানো নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো আছে। দেখা যায়, সাইনবোর্ডের ঠিক সামনেই আবদুল্লাহপুর থেকে আসা বাসগুলো দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। পেছনে তৈরি হচ্ছে গাড়ির দীর্ঘ সারি।
জসীমউদ্দীন সড়কের মোড়ে এয়ারপোর্ট সড়কের দুই পাশেই যানবাহন ঘুরে যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। ফলে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে যানজট তৈরি হয়। জসীমউদ্দীন মোড়ে আছে বেশ কয়েকটি স্কুল। সকালে এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা প্রাইভেট কারের কারণে যানজট আরও ভয়াবহ হয়।
উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আখতার হামিদ বলেন, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিটা বেশি হয়। ভারী যানবাহনগুলো উত্তরার বিভিন্ন সংযোগ সড়কে প্রবেশ করে জসীমউদ্দীন মোড় দিয়ে। সারা বছর এ জায়গাটায় ভয়াবহ জ্যাম লেগেই থাকে।
মেয়র আনিসুল হক বলেন, এ সড়কটির ট্রাফিক সমস্যা বিকট। যানজট এত ভয়াবহ যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও ট্রাফিক সিগন্যাল পার হওয়া যায় না। প্রাথমিকভাবে হাতে নেওয়া প্রকল্পটি সফল হলে অন্য কিছু সড়কেও ইউলুপ স্থাপন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার যানজট ৫০ শতাংশ কমে যাবে।
এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম এনামুল হক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গাজী ফিরোজ রহমান, প্রকল্প পরিচালক কামরুল আহসান ও মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen − fifteen =