মৌলভীবাজারে ধানে ব্লাস্ট রোগের আক্রমন : দিশেহারা কৃষকরা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পিকলু চক্রবর্তী, মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় বোরো ধানের ছড়ায় ব্লাস্ট রোগের আক্রমনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গত বছরের বন্যার ক্ষতি পোষিয়ে উঠতে না পেরে হতাশ কৃষকদের মাঝে নতুন মাত্রায় শঙ্কা তৈরী করেছে এই রোগ। ধানের গোড়ায় পছন ও মড়ক ধরায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক।রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ আজিজুর রহমান বলেন, আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি। এটি ব্লাস্ট রোগের আক্রমন। সব মিলিয়ে আক্রান্ত জমির পরিমান বেশি হবে না। আমি এটির প্রতিকারের ওষুধ বলে দিয়েছি। এক সপ্তাহ স্প্রে করলে রোগ সেরে যাবে।

জানা যায়, ধানের ছড়াগুলোতে মড়ক ও পছন ধরায় হাশ কৃষকরা তার প্রতিকারে বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করছেন। তবুও আক্রান্ত ধান মরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ইতিপূর্বে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি এটিকে ব্লাস্ট রোগ বলে চিহ্নত করেছেন। এর প্রতিকার ব্যবস্থা জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এরই মধ্যে বেশিরভাগ কৃষকের সোনার ফসলে হানা দিয়ে তাদের ধান বিনষ্ট করেছে ব্লাস্ট রোগ।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে জানা যায়, গড়গাঁও, পাঁচগাঁও, ধলিয়ার বন্দ, মনসুরনগর, তারাচং ও ‘ডিগলার গাংএর বন্দে’ ধানে মড়ক দেখা দিয়েছে। ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত এসব ছড়ার ধানে চাল হবে না বলে জানান কৃষকরা। গড়গাঁও গ্রামের কৃষক ইউনুছ হোসনে জানান, ছয় বিঘা জমিতে বিআর-২৮ জাতের ধান চাষ করেছিলেন। ঘরের পিছনের জমিতে চাষ করায় প্রতিদিনই জমিতে গিয়ে ধান দেখতেন। সব জমিতেই ধানের ছড়া এসেছে। ভাবছিলেন কিছু দিনের মধ্যেই ভালো ফলনের জন্য তিনি কৃষি বিভাগের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন ধরনের সার দেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখেন সব জমির ধানে মড়ক দেখা দিয়েছে। এসব ধান এখন আর কোন কাজের নয় বলে জানান তিনি।

রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামের ইউনুছ হোসেন এবার ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এসব জমিতে বিআর-২৮ ধানের চারা রোপন করেছেন। কিছু জমিতে বিআর-২৯ ও লাগিয়েছেন। ধানের চারাগলোও বেশ ভালো ছিল। ফলন বেশি পাবেন বলে ছয় বিঘা জমিতে প্রায় ৩৭ হাজার টাকা খরচ করেছেন। কিছু দিনের মধ্যে ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখে ধানে মড়ক দেখা দিয়েছে। সবকটি ধানের ছড়ায় ধান মরে গেছে। ইউনুছ হোসেন বলেন, গত তিনটি মৌসুমে কোন ধান ঘরে তুলতে পারিনি। এবার ভাবছিলাম ভালো ফলন হবে। জমিতে ৩৭ হাজার টাকা খরচ করেছি কিন্তু এখন ১০মণ ধানও পাব বলে মনে হচ্ছে না।

মনসুরনগর ইউনিয়নের তারাচুং গ্রামের কৃষক ঝুনুর মিয়া বলেন, এবছর ক্ষেতে প্রচুর খরচ করেছি। যদি ধানে কোন সমস্যা হয় তাহলে বাঁচার উপায় থাকবে না। গত তিন মৌসুম ঘরে এক মণ ধানও তুলতে পারিনি। এবার ধান না পেলে ঋণের কারণে বাড়ি ছাড়তে হবে।

 

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eight − 2 =