ম্যাজিষ্ট্রেট , নাকি সহকারী অধ্যাপক-প্রথম কে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন?

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভান্ডারিয়ার  নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সহকারী অধ্যাপককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে  প্রশ্নবিদ্ধ হলো  বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি । গত ৯ এপ্রিলএইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কর্তব্যরত প্রধান প্রত্যবেক্ষককে (সহকারী অধ্যাপক) লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির নেতারা। ২৩ মার্চের পরীক্ষার আগে ম্যাজিস্ট্রেট এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছিলেন তারা। সেই দাবি মানা হয় নি।এর প্রতিবাদে  ২৬ এপ্রিল সারাদেশের সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষকরা। তবে ঘটনার  ব্যাপারে ম্যাজিষ্ট্রেটদের পক্ষ থেকে এর  বিপরীত কথা বলা হচ্ছে। এ কারণে প্রশ্ন উঠেছে ৯ এপ্রিলের ঘটনা এতো পরে মিডিয়ার নজরে আনা হলো কোন্ উদ্দেশ্যে?

সূর্যবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম কে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলাম জানান, ৯ এপ্রিল ৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে  তাঁর পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল। তিনি ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণের সময়ে দেখতে পান দুই ছাত্রী কথা বলছে এবং  দেখাদেখি করে লিখছে। এ বিষয়ে কর্তব্যরত প্রধান প্রত্যবেক্ষক সহকারী অধ্যাপক মোনতাজ উদ্দিনকে ব্যবস্থা নেবার অনুরোধ করেন। এর জবাবে মোনতাজ উদ্দিন বেশ উত্তেজিত হয়ে আশ্রাফউদ্দিনের পরিচয় জানতে চান।এক পর্যায়ে তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে ম্যাজিষ্ট্রেট আশ্রাফুল ইসলামকে ব্যাবস্থা নিতে বলেন।  পরীক্ষার্থী ছাত্র ছাত্রীর সামনে উত্তেজিত মোনতাজউদ্দিনের চরম দুর্ব্যবহারে অপমানিত আশ্রাফউদ্দিন অধ্যক্ষর কক্ষে বসে ইউওনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেই সময়ে মোনতাজউদ্দিন অধ্যক্ষর কক্ষে যান সহকর্মীদের নিয়ে। সাথে কিছু ছাত্র ও ছিল্ সকলের সামনে তিনি বলেন ,”আমি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে দুর্ব্যবহার করে ভুল করেছি।” এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে ঝুঁকে পড়েন।সাথে সাথে ম্যাজিষ্টেট উঠে দাঁড়ান ।তার অজান্তেই ছবি তোলা হয় উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ।

অভিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও শিক্ষা সচিবের কাছে ১৯ এপ্রিল স্মারকলিপিও দিয়েছেন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি প্রফেসর নাসরীন বেগম ও মহাসচিব আইকে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।

গম্ভীর ভাবে  বসে থাকা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের পায়ে ধরে শিক্ষকের ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গীর  ছবি স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে সারাদেশে কর্মরত শিক্ষা ক্যাডারে ক্ষোভ ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 5 =