নিশিকন্যাদের আলো–আঁধারি জীবন নিয়ে ঢাকার প্রথম সিনেমা ‘দেহ স্টেশন’ আসছে দুই বাংলায়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশে দেহপসারিনীদের নিয়ে মঞ্চনাটক, টিভি নাটক বা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র  হলেও সিনেমা হয়নি। এবারই প্রথম একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র সিনেমাহলে আসছে। ছবিটির নির্মাতা তরুণ চলচ্চিত্র পরিচালক আহমেদ তাহসিন শামস।‘দেহ স্টেশন’  চলতি ফেব্রুয়ারিতেই ঢাকা-কলকাতাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন শহরের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে মুক্তি পাওয়ার কথা। নিজের লেখা গল্প নিয়ে তৈরি ছবিটি সম্পর্কে শামস বলেন, “এ হল নিশিকন্যাদের আলো–আঁধারি জীবনের প্রতিচ্ছবি।“ আলো-আঁধারের রঙ যেহেতু সাদা-কালো, তাই পরিচালক ছবিটি পুরোপুরি সাদা-কাল ফরম্যাটে বানিয়েছেন বলে জানান।

চরিত্রটি রূপায়ণ করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী মৌমিতা মিত্র। চরিত্রটি সম্পর্কে তিনি বলেন, “বার বার আলোর পথে ফেরার চেষ্টা করছে ওই মেয়েটি। কিন্তু হিজড়ে খলনায়ক, বাবু  এবং সমাজ তা হতে দেবে না। কী অদ্ভুত যন্ত্রণার জীবন! সময়ের গণ্ডি নেই। একাল–সেকাল একাকার।“

মৌমিতা এর আগে গ্রুপ থিয়েটার ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। প্রয়াত পরিচালক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিনেমাতেও তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে। ভিন্নধর্মী ছবিতে কাজ করতেই তাঁর বেশি আগ্রহ।

‘দেহ স্টেশন’ ছবিতে মৌমিতা মিত্রের সঙ্গে অভিনয় করেছেন আলাউদ্দিন রানা, সাহাদাত হোসেন, ফারহানা ইভা প্রমুখ বাংলাদেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।

পরিচালক বললেন, “বাচনে, শিল্পে, চরিত্র আর নকশার নতুনত্ব নিয়ে খেলতে গিয়েছি। আসলে বাংলাদেশে যৌনকর্মীদের নিয়ে আগে সিনেমা তৈরি হয়নি। শর্ট ফিল্ম বা টেলিভিশনের পর্দায় হয়েছে। বড় পর্দায় এই প্রথম।“

শামস তাঁর সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র যাকে দেখিয়েছেন, সেই যৌনকর্মী মেয়েটি আদতে অতি সাধারণ একটি মেয়ে, যে কিনা সমাজ–বাস্তবতায় একসময় হয়ে ওঠে দেহপসারিণী।

‘দেহ স্টেশন’ ছবিটির স্ক্রিনিং–এর মধ্যে দিয়ে দু-বাংলার চলচ্চিত্র মুক্তির আদানপ্রদানে বড় মাপের ব্যবসায়িক সাফল্য আশা করছেন ঢালিউড ও টালিউডের নির্মাতারা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 1 =