রনদাপ্রসাদের খুনি টাঙ্গাইলের যুদ্ধাপরাধী মাহবুবুর রহমানের বিচার শুরু

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন অভিযোগে টাঙ্গাইলের মাহবুবুর রহমানের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মির্জাপুরের দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাসহ ৬২ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে ৬৯ বছর বয়সী মাহবুবের বিরুদ্ধে।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গতকাল বুধবার আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করে দেয়। আগামি ২২ এপ্রিল সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে যুদ্ধাপরাধের এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। রাষ্ট্রপক্ষে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ, রেজিয়া সুলতানা চমন ও তাপস কান্তি বল। আসামি মাহবুবুর রহমানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

তুরিন আফরোজ পরে বলেন, অভিযোগ গঠনের সময় আসামিকে তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। তিনি সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দবি করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আসামি মাহবুবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রনদা প্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালায়। তারা রনদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রনদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রনদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ ৭ জনকে তুলে নিয়ে হত্যা করে তাদের লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়। তাদের লাশ আর পাওয়া যায়নি।

 

প্রসিকিউশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাহবুবের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ একাত্তরে মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন। মাহবুব ও তার ভাই আব্দুল মান্নান ছিলেন রাজাকার বাহিনীর সদস্য। তাদের বাড়ি মির্জাপুরের বৈরাটিয়া পাড়ায়।

মাহবুব একসময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ছিলেন বলে তদন্ত সংস্থার ভাষ্য । তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও প্রতিবারই পরাজিত হন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 4 =