‘রাইজিং কাশ্মীর’ পত্রিকার সম্পাদক সুজাত বুখারির হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাইজিং কাশ্মীর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সুজাত বুখারি। ২০০০ সাল থেকেই তাঁর উপর একাধিক হামলা হয়েছিল। তারপর থেকেই রাজ্য সরকারের তরফে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। প্রেস কলোনিতে অবস্থিত নিজের অফিস থেকে এদিন বিকেলের দিকে বেরোচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়েই অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে। একাধিক বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হন তিনি। আহত হন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

সাম্প্রতিক কালে সাংবাদিকদের উপর এমন হামলার ঘটনা ঘটেনি কাশ্মীরে। স্বাভাবিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকমহল। কাশ্মীর টাইমসের সম্পাদক অনুরাধা জামওয়াল বলেছেন, ‘‌এই হামলা সাংবাদিকদের স্বাধীনতার উপরেই হামলা। ঘটনার পরেই ট্যুইটারে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি লিখেছেন ‘‌সুজাতের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। ইদের আগেই এই হামলা আমাকে মর্মাহত করেছে।’‌ ট্যুইট করেছেন ওমর আবদুল্লাও। লিখেছেন, ‘‌আমি নির্বাক। সুজাতের আত্মা শান্তি পাক। তাঁর পরিবারকে মন শক্ত রাখার অনুরোধ জানাই।’‌

প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল এটি বিচ্ছিন্নতাবাদী তথা জঙ্গিদের কার্যকলাপ।  গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে আততায়ীদের ছবি। সেই ছবি প্রকাশ করেছে কাশ্মীর পুলিশ। ফলে খুব শীঘ্রই আততায়ীদের ধরে ফেলা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আততায়ীদের ছবিতে দেখা গিয়েছে,তারা বাইকে চড়ে এই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, রাইজিং কাশ্মীর(ইংরেজি)পত্রিকা ছাড়াও বুলন্দ কাশ্মীর(উর্দু) পত্রিকার সম্পাদনাও করতেন সুজাত। ২০০০ সাল থেকে তাঁকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বারবার সুজাতকে কলম ধরতে দেখা গিয়েছে।  রোজার সময়ে কাশ্মীরে সংঘর্ষ বিরোধীচুক্তি লঘু করার ডাক দিয়েছিল কেন্দ্রেীয় সরকার। কেন্দ্রর এই পদক্ষেপের সমর্থনে ছিলেন বুখারি। আর সেজন্যই তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রোষের মুখে পড়েন বলে দাবি বহু মহলের।

জম্মু–কাশ্মীর এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার খর্ব হয়েছে সদ্য এই রিপোর্ট দিয়েছে জাতিসংঘ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে এই তিন জায়গায়। ফলে তাতে মানবাধিকার খর্ব হচ্ছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten + 10 =