রাঙামাটির আদিবাসীদের চার গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

 

রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় যুবলীগের এক নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আদিবাসীদের চারটি গ্রামের সব বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে ৷ আতঙ্কে তারা এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন ৷

শুক্রবার সকালে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে গুণমালা চাকমা (৭৫) এক আদিবাসী নারী মারা গেছেন, তবে ঘটনার সত্যতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। পরবর্তী আদেশ দেওয়া না পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

লংগদু উপজেলার আটারকছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা জানান, বিক্ষোভ মিছিলের সময় প্রশাসনের আশ্বাস পেয়ে স্থানীয় বসতিরা ঘরবাড়িতে ছিলেন। কিন্তু তারপরও তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন। ‘এক মোটরসাইকেল চালকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০০টি ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সবাইকে গ্রেফতারেরও দাবি জানান তিনি।

এদিকে পাহাড়িদের ওপর হামলার ঘটনায় মো. সবুজ, মো. খায়ের ও মামুন নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লংগদু থানার ওসি মো. মোমিনুল ইসলাম এ ঘটনা জানিয়েছেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১ জুন) লংগদু উপজেলা থেকে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক ও স্থানীয় সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন দুইজন যাত্রী নিয়ে দীঘিনালার দিকে রওয়ানা হন। দুপুরের পর দীঘিনালার চার মাইল এলাকায় তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় ফেসবুকে তার মৃতদেহের ছবি দেখে শনাক্ত করে পরিবার ও বন্ধুরা।

শুক্রবার সকালে নয়নের লাশ লংগদুতে তার গ্রামের বাড়ি বাইট্টাপাড়া আনা হয়। সেখান থেকে লংগদুবাসীর ব্যানারে কয়েক হাজার বাঙালির একটি বিশাল শোকমিছিল উপজেলা সদরের দিকে যাওয়ার পথে প্রধান সড়কের পাশের লংগদু উপজেলা জনসংহতি সমিতির কার্যালয়সহ আশে পাশের পাহাড়িদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে বাঙালি ও পাহাড়িদের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে যুবলীগ নেতাকর্মীরা লংগদু উপজেলা পরিষদ মাঠে সমাবেশ করে। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, পাহাড়িরা নয়নকে হত্যা করেছে ।

জনসংহতি সমিতির জেলা শাখার সভাপতি মনি শংকর চাকমা বলেন, পাহাড়িদের দায়ী করে শুক্রবার সকালে বাঙালিরা তিন টিলা ও মানিকজোর ছড়া গ্রামে পাহাড়িদের দুই শতাধিক বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। জনসংহতি সমিতির কার্যালয়ও পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসছে। তবে এখনও পাহাড়ি বাঙালি উভয়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − fourteen =