রাজধানীর গোপীবাগে বিড়াল হত্যা পরবর্তী শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ নিয়ে তরুণীর ফেসবুকে পোস্ট, কেয়ার ফর প’স এর মামলা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় একটি বিড়ালকে হত্যা করে তার শরীরের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ আলাদা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এক তরুণী, সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আই লাভ ব্লাড’। । ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর ওই তরুণীকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেয়ার ফর প’স’ এর উদ্যোগে ওই তরুণীকে চিহ্নিত করে পুলিশ নিয়ে সেই বাড়িতে যায় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এই ঘটনায় কেয়ার ফর পস- এর সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হুসাইন বাদী হয়ে মুগদা থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রলয় কুমার সাহা গণমাধ্যমকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা আইন, ১৯২০-এর ৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি অকারণে শুধু সহিংসতা প্রদর্শনে কোনো প্রাণিকে হত্যা করে তাহলে তিনি অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে কোনো গোষ্ঠী ধর্ম বর্ণের রীতি পালনের জন্য বা কোনো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে তা অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না।

সংগঠনের পক্ষ থেকে মো. সেলিম নামে একজন জানান, আমরা মেয়েটির এই বিভৎস কাজে ক্ষুব্ধ। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি।

তিনি আরো জানান, আমরা গত কয়েকদিন চেষ্টা করে তাকে চিহ্নিত করেছি। মেয়েটি বিড়ালটিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে তার মা ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন। তারা আমাদের সঙ্গে মিমাংসা করারও প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আমরা স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা নিয়েই এখানে এসেছি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী জানায়, তিনি ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে এসএসসি পাস করে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হলেও তার এন্টিবায়োটিক রিঅ্যাকশন হওয়ার কারণে পড়াশোনা আপাতত বন্ধ আছে। আবারও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবেন।

তিনি আরো বলেন, আমি এর আগে ছোট ছোট সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট করেছি। এটাও কৌতুহল বশত করেছি। আমি খুব দুঃখিত, ভবিষ্যতে এরকম আর করবো না।

তবে তার মা শাহনাজ বেগম এসময় এগিয়ে এসে বলেন, আমি একজন আইনজীবী। আপনারা একটা বিড়ালের বাচ্চাকে নিয়ে এত কিছু করছেন, রাস্তায় মানুষের বাচ্চা ফেলে গেলেওতো কিছু করেন না।

এরপর সংগঠনের সদস্যরা বলেন, আজ বিড়ালের বাচ্চা হত্যা করেছে পরবর্তীতে আরো কোন বড় অপরাধ করতে পারে। এতে ক্ষেপে ওঠেন শাহনাজ বেগম।

ঐদিন বিকালে পুলিশ ওই তরুণীকে হেফাজতে নিয়ে থানায় রওনা হয়। সংগঠনের বেশ কয়েকজন কর্মী সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × three =