‘রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা বাতিল :বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন’- মার্কিন আদালত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইউএস সিটিজেন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস (ইউএসসিআইসি)-এর আইনানুসারে, দুই বা ততধিক ব্যক্তি বা সংগঠনের যে কোনো দল বা উপদল যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে তাহলে সেই দল বা উপদল টায়ার-৩ এর অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হবে। টায়ার-১ ও টায়ার-২ তে সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো থাকলেও টায়ার-৩ এর অন্তর্ভুক্ত দলগুলো সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ এর তালিকায় রেখেছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির কর্মীরা রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য বিবেচিত হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সেখানকার আদালতে গিয়েছিলেন দুজন রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থী বাংলাদেশিদের আইনজীবী। প্রায় একই সময়ে দুটি পৃথক আদালতে এ বিষয়ে মামলার রায় এসেছে দুই ধরনের। একটি ইমিগ্রেশন আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে রায় দিলেও আরেকটি একই ধরনের আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রাখার বিপক্ষে মত দিয়েছে। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের ওয়াশিংটন দূতাবাসকে উভয় আদালতের রায় সংগ্রহের জন্য বলা হয়েছে।

মার্কিন দুই আদালতের রায়ের অনুলিপি অনুসারে, বিএনপি টায়ার-৩ স্তরের একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউজার্সির এলিজাবেথ ইমিগ্রেশন কোর্ট বা অভিবাসন আদালত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপর অঙ্গরাজ্য লুসিয়ানার অকডেলের একটি অভিবাসন আদালতের রায়ে বিএনপিকে টায়ার-৩ এর সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রাখা হয়েছে। বিএনপির কর্মী পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা থেকেই এ মামলা দুটোর সূত্রপাত।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের অধীনে এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউয়ের এলিজাবেথ ইমিগ্রেশন কোর্ট অব নিউজার্সির গত ৭ জুলাই দেওয়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দুই দিক থেকে বিএনপিকে টায়ার-৩ স্তরের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রথমত. বিএনপি বর্তমানে ও অতীতে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধেছে এবং দ্বিতীয়ত. বিএনপির কর্মীরা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত থাকা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এই দুই দিক থেকে বিএনপি যে সন্ত্রাসী সংগঠন তার পক্ষে ১৬টি দালিলিক প্রমাণ আদালতে উত্থাপন করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

 

বিচারক ডারোথি হারবেকের রায় অনুসারে, ২৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি গত বছরের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। ৩ নভেম্বর তার নামে নোটিস পাঠায় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। পরে ৩০ ডিসেম্বর সেই বাংলাদেশি বিএনপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ মার্চ বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে আদালতে তথ্য প্রমাণ উত্থাপন করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির চিফ কনসাল অফিসের জর্জ দোভিআস। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনাকারীর পক্ষে আদালতে লড়েছেন নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি আইনজীবী অশোক কুমার কর্মকার। আদালতের রায়ে বলা হয়, ‘কোর্ট অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং বিস্তারিতভাবে যুক্তিতর্ক শুনেছেন এবং আদালতে উত্থাপিত তথ্য প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট আইনগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন। পরিশেষে উভয় যুক্তিই খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।’

অন্যদিকে, একই ইস্যুতে লুসিয়ানার অকডেল ইমিগ্রেশন কোর্টে আরেকটি মামলা হয়। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লরেডোতে পোর্ট অব এন্ট্রিতে প্রবেশ করা আরেক বাংলাদেশিকে নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলা হয়। আবেদনকারীর পক্ষে মার্কিন আইনজীবী পল এইচ স্কট আদালতে লড়াই করেন। এতে আদালত ‘টায়ার-৩ এ বিএনপি থাকতে পারে বলে রায় দেন’। একই অঙ্গরাজ্যের আদালতে আরও ১০ বাংলাদেশির রাজনৈতিক আশ্রয়েরও আবেদন বাতিল হয়েছে। তারাও নিজেদের বিএনপির কর্মী পরিচয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। পরে এই ১০ বাংলাদেশি লুসিয়ানার জেনা সিটির লাসালে ডিটেনশন সেন্টারে আটক অবস্থায় অনশনও করেছেন। সম্প্রতি এমন আরও এক অভিবাসীর আবেদন নাকচ করে দেন টেক্সাস আদালত।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি তার দফতরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পাবে তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য বিব্রতকর ও মানহানিকর। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক চর্চায় এটা কোনো প্রভাব রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দুই আদালতে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখানে থাকা বাংলাদেশ মিশনকে উভয় রায়ই সংগ্রহ করে পাঠাতে বলা হয়েছে। রায় দেখার পরই আমরা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানব পাচারের এই শক্তিশালী দালাল গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। যারা ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলার অধিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান এবং পরে তাদের রাজনৈতিক দলের লেবাস লাগিয়ে ও দেশে নির্যাতিত হচ্ছেন উল্লেখ করে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one + eight =