রাধা-জয়তি রায়

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভীষণ রাগ হলো আমার।
থমথমে কালো মেঘে ভরা আকাশ নিয়ে , একলাদুপুরে দাঁড়িয়ে আছি গোলপার্কের মোড়ে সেই কখন থেকে। মেঘলা দুপুর কেমন নির্জন হয় । এখন আমার বুকের ভেতরেও ডাকছে অস্থির এক ঘুঘু।
জানি, আমার কবি উদাসীন। সে হয়তো ভুলেই যেত। যদি না আমি বার বার মেসেজ করতাম ,নির্লজ্জের মতো।
ভীষণ মন খারাপ লাগছে আমার। জানো?
সেই কবে থেকে, এক একান্ত দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছিলাম।ভাবছিলাম যাকে দেখিনি কখনো, আজ দেখবো। কথা দিলো তো সেই কবি।কিন্তু এলো না!পৃথিবীতে কবে এমন দিন আসবে? যেদিন সোচ্চারে বলা যাবে ভালোবাসার কথা ! কবে মানুষ প্রমাণ করতে পারবে, ভালোবাসা পাপ নয়। তাকে নষ্ট করাই অন্যায় ?
ভীষণ ভয় করছে আমার।
কেউ যদি দেখে ফেলে! এমন , মেঘলা একাকী দুপুর। সেজেছি তার পছন্দের সাদা শাড়ী তে। কাজল ঘেরা চোখ। এক ছোট্টো টিপ ।কানে ঝুমকো। জানোই তো!
অভিসারিকার কোনো দেশও নেই।কালও নেই।তার সমস্ত উন্মুখ অবয়বে ফুটে ওঠেচিরকালীন প্রতীক্ষার উৎকণ্ঠা।
ভীষন কান্না পাচ্ছে আমার।
নিষ্ঠুর, উদাসীন আমার কৃষ্ণ । আমি কি এক মাটির পুতুল? ভাঙছে। গড়ছে। ইচ্ছে মতো? তবু আমার পৃথিবী কৃষ্ণময়। ঐ চেতনাহীন, ভালোবাসাহীন , মমত্বহীন পুরুষই আমার আশ্রয়। রোজ তার বাঁশিতে বেজে উঠি, বেঁচে উঠি। নিজেকে সাজিয়ে তুলি।অন্তহীন অভিসার আমার। শূন্য থেকে পূর্ণ । অন্ধকার থেকে আলো। সীমা থেকে অসীম , এ যাত্রা শেষ হবে না আর।
ভীষণ ক্লান্ত লাগছে আমার!
কেন ভালোবাসে লোক? এই বোকা প্রশ্ন, নিজেকে হাজার বার করেও আবার ভালোবাসে। দুঃখ আগুনে ছারখার হতে হতে, আবার ভালোবাসে। নিষ্ঠুর ব্যবহারে ছিন্ন ভিন্ন হয়েও , আবার ভালোবাসে।
ভীষণ আনন্দ হচ্ছে আমার!
উপেক্ষা র একটা ভাষা আছে। যার ওপরে জোর আছে। যাকে একান্ত আপন মনে হয়, উপেক্ষা আর নিষ্ঠুরতা সেখানেই দেখানো যায়। কোনো প্রত্যাশা তো নয়। ভালোবাসার জন্য ভালোবাসা। মনে হচ্ছে, আর আসবে না।চলে গেছে, চন্দ্রা র কাছে। চন্দ্রা ,তো অপরূপ সুন্দরী। আমি নই। যেতেই পারে। যাক। ওর আনন্দেই আমার আনন্দ।
অভিমান, রাগ এসবের কোনো দাম যখন নেই, নিঃশর্ত ভালোই বেসে যাই বরং।ভালোবাসার আলোতে নিজেকে সাজাই। অপেক্ষা করি এক লাইট হাউসের মতো। অভিমান অভিসার আর প্রতীক্ষা — এ যদি না থাকে, তবে জীবন পূর্ণতা পাবে কি করে?

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − 7 =