রাষ্ট্রবিরোধী ছেলের কলঙ্কের ভাগ নিলেন না আত্মঘাতী জঙ্গি নাজিমের মা: লাশ প্রত্যাখ্যান

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত ছেলের কলঙ্কের ভাগ  নিতে চান না মৌলভীবাজারের বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় নিহত তিন জঙ্গির অন্যতম আত্মঘাতী জঙ্গি আশরাফুল আলম নাজিমের মা মনোয়ারা বেগম। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ্ জালাল মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ।

সন্তানের লাশ সনাক্ত করেই প্রত্যাখ্যান করলেন  মনোয়ারা বেগম। এমন সন্তানের লাশ নেবেন না; দাফন ও করবেন না বলেছেন তিনি।

আশরাফুলের মা মনোয়ারা জানান, তার ছেলে ৭/৮ মাস আগে সর্বশেষ বাড়িতে যোগাযোগ করে। তখন সে জানায়, ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছে। আশরাফুলের পরিচয় নিশ্চিত হতে তার মাকে মৌলভীবাজারে ডেকে পাঠায় পুলিশ। মঙ্গলবার তিনি লাশ শনাক্ত করেন।

সিলেটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ চলার সময় তার পাশেই পাঠানপাড়ায় পুলিশ ব্যারিকেডের উপর  বোমা হামলা করে জঙ্গি আশরাফুল। সেই গ্রেনেড হামলায় র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট সাতজন মারা যায় এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়। নাজিম এর পর মৌলভীবাজারের জঙ্গি আস্তানায় ফিরে যায়।

গত ২৯ মার্চ ভোর রাত থেকে মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রাখে পুলিশ ও সিটিটিসির সোয়াট টিম। প্রায় ৮২ ঘণ্টা ঘিরে রাখার পর ওই আস্তানা থেকে দুজন পুরুষ ও এক নারী জঙ্গির ছিন্নভিন্ন লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘সিলেটের শিববাড়ীতে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের পাশে পাঠানপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার  মূল হোতা  নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার ঢেউটি ইউনিয়নের কুমার ঘড়িয়া গ্রামের আশরাফুল আলম নাজিম। সেখানে বোমা হামলা চালিয়ে মৌলভীবাজারের বড়হাটের  জঙ্গি আস্তানায় পালিয়ে আসে । সেখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে আত্মঘাতী জঙ্গি  নাজিম নিহত হয়। সন্তানকে সনাক্ত করার পর তার মা মনোয়ারা বেগম দ্ব্যর্থহীন ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন,  রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত এমন ছেলের লাশ নিয়ে  কলঙ্কের ভাগ নিতে চান না। তাই তিনি ছেলের লাশ নেবেন না।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ্ জালাল  আরও জানান, এলাকার ইউপি সদস্য মোতাহের আলী তার স্ত্রী পান্নাসহ তিনজন আত্মঘাতী জঙ্গি আশরাফুলের লাশ শনাক্ত করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × one =