রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কালিকাপ্রসাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কবীর সুমনের পর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গান বেঁধেছিলেন কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য। কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেছিলেন , ‘৭১ এ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যে যার অবস্থান থেকে কাজ করেছে মাতৃভূমির জন্য। আর আমিও তো বাঙালি। তাই এক ধরনের দায়িত্ববোধ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা জানাতেই আমার এই গান।’

সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভুবন মাঝি’ ছবিতে সংগীত পরিচালনা করেছেন , কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন, জানা গেছে ছবিটি তাকে উৎসর্গ করা হবে !

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে শিল্পী কালিকাপ্রসাদের  শবদেহ আনা হয় রবীন্দ্রসদনে। সেখানে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান অগনিত শিল্পী ও অনুরাগীরা।

কেওড়াতলা শ্মশানে গান স্যালুটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় শিল্পী কালিকাপ্রসাদের।

গাড়ি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর প্রাথমিকভাবে  তদন্তকর্তারা অনুমান করছেন দুর্ঘটনার সময় দোহারের সদস্যদের বহনকারী ইনোভা গাড়ির চালক অর্ণব রায়  ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বা অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলেন । শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনার সময়ে গাড়ির গতিবেগ ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটারের কাছাকাছি ছিল বলেই তারা নিশ্চিত হয়েছেন। যে কারণে রাস্তার ধারে থাকা গার্ডওয়াল রেলিংয়ে ধাক্কা লেগে চালক হকচকিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৭০ ফুট চলে গেলেও চালক ব্রেক কষতে পারেননি।

যদিও বর্ধমান হাসপাতালে সংবাদমাধ্যমের কাছে গাড়ির চালক অর্ণব রায় দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময়ে গাড়ি ৫০-৬০ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। সামনে থাকা একটি কন্টেনার হঠাৎ করে বাঁদিকে চেপে দেওয়ায় তিনি রাস্তার থেকে নীচে নামাতে বাধ্য হন। তখনই তাঁর গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা মারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরেনসিক দলের সদস্যরা গাড়িটি পরীক্ষা করে যাওয়ার পর  দুপুরে একটি বীমা সংস্থার তিন প্রতিনিধি গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। গাড়িটি পরীক্ষার পর গাড়ির গতি যে ১০০ কিমির কাছাকাছি ছিল সে বিষয়ে সহমত পোষণ করেছেন।

জেলা পুলিশ ও ঘটনার তদন্তে আসা ফরেনসিক বিভাগের তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পেরেছেন নিয়ম ভেঙে দুর্গাপুরমুখী লেনের বাঁদিক ধরে ওভারটেক করতে চাইছিলেন কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যের গাড়ির চালক। শুধু তাই নয় গাড়ির সহ যাত্রীদের মতোই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চালক অথবা তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, গাড়িতে চালকরা ঘুমিয়ে পড়লে সাধারণত বাঁদিকে হেলে পড়েন। ফলে গাড়িও ক্রমশ বাঁদিকে চলে যেতে থাকে যা এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও স্পস্ট। দ্বিতীয়ত, চালকের দাবি মতো হঠাৎ করে যদি ট্রেলার বাঁদিকে তাঁর গাড়িটিকে চেপে দেয় ও গাড়িটি ৬০ কিলোমিটার গতিতে ছিল তাহলে তিনি ব্রেক করে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলেন না কেন? কারণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তার রেলিং ধরে প্রায় ৭০ মিটার একইভাবে গাড়িটি ঘষটে যাওয়ার পর কালভার্টে ধাক্কা মেরে নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়েছে। চালক ব্রেক করে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে ঘষটানোর দাগ অসমান হত। শুধু তাই নয় ঘুমিয়ে পড়ার কারণে রেলিংয়ে ঘষটে যাওয়ার শব্দ শুনে হকচকিয়ে ব্রেক করার পরিবর্তে অ্যাক্সিলেটরে চাপ দিয়ে বসেন চালক। সেজন্যই গাড়ির গতি আরও বেড়ে যাওয়ায় কালভার্টে ধাক্কা মারার পর প্রায় ১৫ ফুট দূরে নয়ানজুলিতে ছিটকে পড়ে !

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে, হর্নটা বেজেই যাচ্ছিলো একটানা, মিনিট দশেক পড়ে খটকা লাগে গ্রামবাসীদের, তারা দেখে নয়ানজুলির ভিতর উল্টে পড়ে আছে একটা ইনোভা। তার মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী, কলকাতার জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দোহার’- কালিকাপ্রসাদ, সবচাইতে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত , চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই তাকে তারা মৃত ঘোষণা করেন ।

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন গাড়ির চালক অর্নব রাও সহ দোহারের আরও এক শিল্পী নিলাদ্রী রায়। প্রাথমিক চিকিত্‍সার পর ছেড়ে দেওয়া হয় রাজীব দাসকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাঙ্গুর হাসপাতালে পাঠানো হয় সন্দীপন পাল ও সুদীপ্ত চক্রবর্তীকে।

অসমের শিলচরে জন্ম। পরিবারের আর পাচজনের মতই ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ ছিল কালিকার। বিভিন্ন ধরনের গান নিয়ে ধারাবাহিক চর্চা থেকে শুরু করে সংগ্রহ। দেশের অন্যন্য জায়গা ছাড়াও ছুটে গিয়েছেন বাংলাদেশ। বাউল-ফকিরদের আখরায়। কলা বিভাগে স্নাতক হওয়ার পর শিলচর ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে স্নাতোকোত্তরে ভর্তি হন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কাকা অনন্ত ভট্টাচার্যর মৃত্যুর পর তাঁর বিপুল গানের সম্ভার নিয়ে কাজ শুরু করেন কালিকাপ্রসাদ। উনিশশো নিরানব্বইয়ে শুরু করেন গানের দল দোহার।

শুধু কী লোকসঙ্গীত! ক্ল্যাসিক্যাল সঙ্গীতেও অসামান্য দখল ছিল তাঁর। দীর্ঘদিন নানা শিল্পীর সঙ্গে হারমোয়িয়ামে সঙ্গত করেছেন । তবলার তালিম নিয়েছেন পণ্ডিত অনিল ভট্টাচার্যর কাছে। গানের সঙ্গে বিভিন্ন যন্ত্রও বাজাতে পারতেন কালিকাপ্রসাদ। লোকগানকে বাণিজ্যের মোড়কে বাঁধেননি কোনওদিন। মাটির গান গেয়েছেন লোকায়ত যন্ত্র নিয়েই।

কবীর সুমনের পর যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গান বেঁধেছিলেন কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য। কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্য বলেছিলেন , ‘৭১ এ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যে যার অবস্থান থেকে কাজ করেছে মাতৃভূমির জন্য। আর আমিও তো বাঙালি। তাই এক ধরনের দায়িত্ববোধ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা জানাতেই আমার এই গান।’

সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভুবন মাঝি’ ছবিতে সংগীত পরিচালনা করেছেন , কিছুদিন আগে বাংলাদেশ থেকে ঘুরে গিয়েছিলেন, জানা গেছে ছবিটি তাকে উৎসর্গ করা হবে !

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 17 =