রিমান্ডে একিউআইএস-এর বাংলাদেশ শাখার প্রধান সমন্বয়ক মইনুল সহ ১২ জঙ্গীর স্বীকারোক্তি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

zkpEK55BGjxqদারুস সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জালালউদ্দিন বলেন, ‘রিমান্ডে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছে  জিহাদি ও ইসলামি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো তারা। তাদের দেওয়া বই পড়তো, তাদের কথামতো জীবনযাপনের চেষ্টা করতো। তবে অভিযুক্তরা ‘আল-কায়েদা’র সদস্য হবার কথা অস্বীকার করেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে, তারা জিহাদি বই পড়ে, বই কেনাবেচা করে।।’ তিনি আরও জানান,  জঙ্গী বাদের কথা অস্বীকার করলেও তাদের অধিকাংশই জঙ্গি দলের সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে ।এসআই জালাল জানান, ‘মামলাটি ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবি অধিকতর তদন্ত করবে ।’

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাওলানা মঈনুল ইসলাম একিউআইএস-এর বাংলাদেশ শাখার প্রধান সমন্বয়ক। এক সময় তিনি হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামির (হুজি) সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। মাওলানা জাফর আমিন একিউআইএসের একজন উপদেষ্টা বলে জানায় র‌্যাব। লেখক অভিজিৎ রায় ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ খুন হওয়ার পর ওই জঙ্গি সংগঠনের পক্ষ থেকে দায়িত্ব স্বীকার করে বার্তা দেওয়া হয়েছিল।

ডিবির (দক্ষিণ) জঙ্গি দমন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমন টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার ঘটনাটি তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, মামলার কাগজপত্র আজই হাতে পেলাম। এখনও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় পাইনি। দ্বিতীয় দফায় ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।

১২ জঙ্গী স্বীকারোক্তিতে জানায় , মসজিদের সামনে অবস্থান নিয়ে নিরীহ মুসল্লীদের সাথে  পরিবেশ বুঝে জিহাদের আলোচনা করতো। মানুষের সাথে কথা বলার পর জঙ্গীবাদের বই দিতো তাদের। নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে নতুন নতুন তরুণদের জঙ্গি হিসেবে গড়ে নেয়া হতো বলেও স্বীকার করে তারা ।

দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদের সামনে জিহাদি বই বিক্রির আড়ালে মুজাহিদ সংগ্রহের চেষ্টা করতো জঙ্গিরা। প্রথমে টার্গেট করে লোকজনের সঙ্গে জিহাদি আলোচনার পর এ সংক্রান্ত বই দিত পড়ার জন্য। এভাবে চলত জিহাদি সংগ্রহ। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে তাদের অনেক গুপ্তচর মুজাহিদ।

গত ৫ জুলাই আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের (একিউআইএস) বাংলাদেশ শাখার দুই শীর্ষ নেতাসহ ১২ জঙ্গি সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। আদালতের নির্দেশে তাদের তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এসময় তারা এসব কথা স্বীকার করে। তবে রিমান্ডে আসামিদের সবাই আল কায়েদার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেনি।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি আল-কায়েদা প্রধানসহ ১২ জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব। লিগ্যালল ও মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, গ্রেফতারকৃতরা একিউআইএস-এর সদস্য। ঈদুল ফিতরের পর রাজধানীতে, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল তাদের। নেতাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলারও পরিকল্পনা করেছিল এই জঙ্গীরা ।তবে রিমান্ডে কেউ নাশকতার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

15 − 9 =