লালমনিরহাটে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কালিজিরার চাষ :৫ হাজারের বেশি কৃষক পরিবারে নতুন সম্ভাবনা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

কালিজিরার বহুমুখী ব্যবহার ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করায় এর কদর বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। লালমনিরহাটের মাঠে মাঠে কালিজিরা ।
লালমনিরহাট সদরসহ ৪টি উপজেলার ৫ সহস্রাধিক কৃষক পরিবারে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
কৃষকের ভাগ্য যেন বদলে দিল এ ফসল। আবাদি এলাকার বাতাসে ভাসছে কালিজিরার মিষ্টি গন্ধ।আগে অনেকে শখের বসে কালিজিরার চাষ করতেন।
চলতি রবি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে কালিজিরার চাষ করেছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ হেক্টরে প্রায় ২০-৩০ মণ কালিজিরা উৎপাদনের আশা করছে। সে হিসেবে লালমনিরহাটে এবার এক হাজার ৭০০ মণ কালিজিরা উৎপাদন হবে।
মাঠজুড়ে পরিকল্পিতভাবে কালিজিরার আবাদ হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কম, ব্যাপক চাহিদা আর লাভজনক হওয়ায় আবাদ বিস্তৃত হয়েছে।
কালিজিরা চাষের জন্য প্রথমবার বীজ কিনলেই চলে। পরে নিজের খেতের বীজ দিয়েই আবাদ করা যায়। গড়ে এক বিঘা জমিতে চাষে খরচ পড়ে ৪ হাজার ২০০ টাকার মতো। সেই জমি থেকে তিন থেকে চার মণ কালিজিরা পাওয়া যায়। প্রতি মণ কালিজিরা বিক্রি হয় পাঁচ হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায়।কালিজিরার চাষে কীটনাশকের খরচ নেই। এ কারণে এই আবাদ থেকে কৃষক বাড়তি উপার্জন তুলনামূলকভাবে বেশি করছেন।

লালমনিরহাট আঞ্চলিক মসলা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, লালমনিরহাট জেলায় এবার ৩০২ হেক্টর জমিতে কালিজিরার আবাদ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর উপজেলায়।
অগ্রহায়ণ মাস কালিজিরা চাষের উপযুক্ত সময়। বপনের তিন থেকে চার মাস পর ফসল পাওয়া যায় বলে জানান কৃষকেরা। পতিত জমি কম টাকায় লিজ নিয়েও অনেকে কালিজিরার চাষ করছেন। কেউ কেউ আবার উৎপাদিত ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ জমির মালিককে দিয়েও আবাদ করছেন।

লালমনিরহাট মসলা গবেষণা উপ-কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মো. কামরুল ইসলাম বলেন,‘এ জেলার প্রায় সব গ্রামে ব্যাপকহারে কালিজিরার আবাদ হচ্ছে। পাঁচ হাজারেরও বেশি কৃষক প্রতি বছর কালিজিরা চাষে লাভবান হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 4 =