শার্ল বোদলেয়ারের দুই কবিতা অনুবাদ : বদ্ধুদেব বসু

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

পন্য কবিতা

কবিতা, মানসী, তুই প্রাসাদের উপাসক জানি ।
কিন্তু বল, যখন প্রদোষকালে, হিমেল বাতাসে,
নির্বেদে, নীহারপুঞ্জে জানুয়ারিকালো হয়ে আসে-
নীলাভ চরণে তোর তাপ দিবি, আছে তো জ্বালানি ?
মর্মরে নিটোল তনু ; কিন্তু তার পুনরুজ্জীবন
হবে কি বাতায়নের রন্ধ্রে বেধা দীপের শিখায় ?
যেমন রসনা নি:স্ব, সেইমতো শূন্য পেটিকায়
ভরাবি, আকাশ ছেকে, নীলিমার উদার কাঞ্চন ?
না, তোকে যেতেই হবে, দিনশেষে অন্নজোটে যাতে,
মন্দিরে, দাসীর মতো, আরতির কাসর বাজাতে,
যে-মন্ত্রে বিশ্বাস নেই, মুখে তা-ই জপ করে যাবি,
কিংবা, উপবাসী তুই, পরে বিদূষকের বসন,
না-দেখা চোখের জলে ভিজিয়ে রঙ্গিন প্রহসন,
ইতর জনগণের তিক্ততায় আমোদ জোগাবি ।

অচেনা মানুষ

 – বলো আমাকে , রহস্যময় মানুষ, কাকে তুমি সবচেয়ে বেশী ভালবাস:
   তোমার পিতা, মাতা, ভ্রাতা অথবা ভগ্নীকে?
– পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ভগ্নী – কিছুই নেই আমার।
– তোমার বন্ধরা?
– ঐ শব্দের অর্থ আমি কখনো জানিনি।
– তোমার দেশ?
– জানি না কোন দ্রাঘিমায় তার অবস্থান।
– সৌন্দর্য?
– পারতাম বটে তাকে ভালবাসতে- দেবী তিনি, অমরা।
– কাঞ্চন?
– ঘৃনা করি কাঞ্চন, যেমন তোমরা ঘৃনা করো ভগবানকে।
– বলো তবে, অদ্ভুত অচেনা মানুষ, কি ভালবাসো তুমি?
– আমি ভালবাসি মেঘ…চলিঞ্চু মেঘ…ঐ উচুতে….ঐ উচুতে….
আমি ভালবাসি  আশ্চর্য মেঘদল!

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 17 =