শিল্পকলা একাডেমির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন কঠোর ও আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকা, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭ : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে এখন কঠোর ও আধুনিকীকরণ করা হয়েছে।পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে ও গোয়েন্দা সংস্থার সার্বক্ষণিক ও কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে পুরো একাডেমি চত্বর।

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী  জানান, হলি আর্টিজানে জঙ্গী হামলার আগে থেকেই একাডেমিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো কঠোর ও আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মব্যবসায়ী, ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী ও জঙ্গীদের প্রধান ও প্রথম টার্গেট হলো এদেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। এ জন্যই ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ তারা সর্ব প্রথম যশোরে উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বোমা হামলা চালায়। এতে ১০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়।
তিনি বলেন, এরপর ২০০১ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে, ওই বছরেরই ২৮ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার রক্সি সিনেমা হল ও সার্কাস মাঠে এবং ২০০২ সালের ১ মে নাটোরের গুরুদাসপুর কিরণ সিনেমা হল ও ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ৪টি সিনেমা হলে জঙ্গীরা বোমা হামলা ও নাশকতা চালায়। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

লাকী বলেন, দেশের জঙ্গী সংগঠন ও ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে ভুলন্ঠিত করতে চায়। এ ক্ষেত্রে তারা প্রথম ও প্রধান বাধা হিসেবে মনে করে আমাদের সমৃদ্ধ কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে। তাই প্রথম থেকেই তারা সংস্কৃতির উপর আঘাত হেনে চলেছে। এর ধারাবাহিকতায় জঙ্গীরা উদীচীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান, সিনেমা হলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালায়।

তিনি বলেন, শিল্পকলা একাডেমি দেশের সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে প্রতিনিয়ত নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। তা উপভোগ করতে দেশের প্রথিতযশা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণসহ সমাজের উচ্চ শিক্ষিত মানুষেরা এখানে এসে থাকেন। তাই জঙ্গী তৎপরতার বিষয়টি মাথায় রেখে বেশ আগে থেকেই সরকার এখানকার নিরাপত্তার বিষয়ে নজর দিয়েছে।

একাডেমির ডিজি বলেন, নিরাপত্তার লক্ষ্যেই সেগুনবাগিচাস্থ শিল্পকলা একাডেমির পুরো চত্বর পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ছোট-খাট কোন ঘটনাও যেন আমাদের নজর এড়িয়ে না যায়, সে জন্য সর্বত্র সিসি ক্যামেরার ফুটেজ মনিটরিং করা হয়।
তিনি বলেন, একাডেমিতে প্রবেশের ৪টি গেইট থাকলেও সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৩ গেইটই বন্ধ থাকে। সন্ধ্যার পর নাট্যপ্রেমী দর্শকদের আনাগোনার জন্য আরো একটি গেইট খুলে দেয়া হয়।

সিসি ক্যামেরা ছাড়াও শিল্পকলার নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৪ জন আনসার সদস্যসহ ৫৪ জন নিরাপত্তা কর্মী সর্বক্ষণ প্রহরায় নিয়োজিত থাকে উল্লেখ করে লাকী বলেন, এরমধ্যে ১০ জন আছেন একটি ভাড়া করা কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী আর শিল্পকলার নিজস্ব ২০ জন কর্মীও সর্বক্ষণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে।

এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পকলার ডিজি বলেন, নাট্যশালা, চিত্রশালা, নৃত্যশালা ও প্রশিক্ষণ ভবনের প্রবেশ দ্বারে আর্চওয়ে ও নিরাপত্তাকর্মী সর্বক্ষণ থাকেন। এছাড়া বড় কোন প্রোগাম থাকলে শিল্পকলার মূল প্রবেশ দ্বারেও আর্চওয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। সর্বোপরি সন্ধ্যার পর সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ছাড়াও নানা শ্রেণীপেশার প্রচুর সংখ্যক মানুষ শিল্পকলা চত্বরে আসেন। তাই অপ্রীতিকর কোন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পকলা চত্বর একটি গোয়েন্দা সংস্থার সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

14 − three =