শিশুরাই মারনাস্ত্রঃইন্দোনেশিয়াতে গীর্জা এবং পুলিশ সদর দপ্তরে আত্মঘাতী জঙ্গী হামলা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ইন্দোনেশিয়ার  পূর্ব জাভার সুরাবায়া এলাকায় রোববার যে জঙ্গী হামলায়  তিনটি গীর্জায় কমপক্ষে ৮জন নিহত হয়েছে, সেটা এক দিক থেকে নতুন মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একই পরিবারের পাঁচজন এই জঙ্গী হামলায় জড়িত ছিলেন।এর পর দিন ই একই এলাকার পুলিশ সদর দপ্তরে আত্মঘাতী জঙ্গী হামলা চালায় আরেকটি পরিবার তাদের শিশু সন্তানদের নিয়ে।

ভয়াবহতার নতুনত্ব এখানে নয়। এ ঘটনায় মা-বাবা তাদের সন্তানদের গায়ে বোমা বেঁধে নিয়ে যাচ্ছেন নিশ্চিত মৃত্যুর দরজায়; লক্ষ্য কিছু নিরীহ মানুষকে হত্যা করা।ইন্দোনেশিয়ার সন্তানদের নিয়ে বাবা-মা চালিয়েছেন এই আত্মঘাতী বোমা হামলা। পৃথকভাবে তারা তিনটি গির্জায় হামলা করেন।এর পর ই একই এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে আত্মঘাতী জঙ্গী হামলা করার চেষ্টা করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল পুলিশ প্রধান টিটো কার্নাভান বলেন, ৮ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে  নিয়ে মোটর সাইকেলে ২ জঙ্গী হামলা চালানোর চেষ্টা করে পুলিশ সদর দপ্তরে। সেই ঘটনায় পুলিশের হামলায়  ১১জন নিহত হয়। এর মধ্যে ৪জন আত্মঘাতী জঙ্গী  এবং ৬জন নিরীহ নাগরিক । আহত হয় ৪ পুলিশ কর্মকর্তা ।

ইন্দোনেশিয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই বোমা হামলা হচ্ছে। কিন্তু রোববারের হামলা সব হামলাকে ছাড়িয়ে গেছে এর ব্যাপ্তি ও প্রকরণের কারণে। গত এক দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। আর রইল প্রকরণ। এমন নয় যে, এর আগে কোনো শিশুকে এ ধরনের হামলায় জঙ্গী সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করেনি। সেসব ক্ষেত্রে মাদক দিয়ে কিংবা অন্য কোনোভাবে সংশ্লিষ্ট শিশুদের হামলা চালাতে বাধ্য করা হয়।

রোববার এক মা তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে একটি গির্জায় হাজির হন আত্মঘাতী হামলা চালানোর উদ্দেশে। একই সময়ে তাঁর অন্য দুই সন্তান ও তাদের বাবা যান অন্য দুই গির্জায় হামলা চালাতে। দুই মেয়ের বয়স ৯ ও ১২ এবং দুই ছেলের বয়স ১৬ ও ১৮ বছর।

সন্তানদের নিয়ে মা-বাবার আত্মঘাতী হামলা চালানোর এই ঘটনার বিস্ময় না কাটতেই সোমবার (১৪ মে) একই শহরের একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায় অপর এক দম্পতি তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে। হামলার এই ধরনটি রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

নাইয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্ডার রেমন্ড বিবিসিকে বলেন, ‘এই ধরনের হামলা একেবারে নতুন। এটা এমন কিছু, যা আমরা এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় দেখিনি।’

বিষয়টি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সামনে এক নতুন ধরনের সমস্যা হাজির করেছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিরাপত্তা কর্মীরা সাধারণত শিশুদের দিকে কম নজর রাখেন। আর এই বিষয়টিকেই ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা।

ইন্দোনেশিয়ার জেনদেরাল আচমাদ ইয়ানি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব গভর্নমেন্টের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইয়োহানস সুলাইমান বিবিসিকে বলেন, ‘শিশুদের কেউ সন্দেহ করে না। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাজের ধরনই হচ্ছে সন্দেহজনক কোনো কিছু বহন করছে কিনা সেদিকে নজর রাখা। আর এ ক্ষেত্রে পুরুষদেরই সবচেয়ে কড়া নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। কিন্তু এমন ঘটনার পর ভবিষ্যতে, হয়তো কাল থেকেই পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা শিশুদের দিকে কড়া নজর রাখতে বাধ্য হবে।’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

seven − 3 =