শিশু জান্নাতকে নির্যাতন:গৃহকর্তা ওমর ফারুক গ্রেফতার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রায় এক বছর আগে গাজীপুরে এক বাসায় কাজ করার জন্য আনা হয়েছিল ছোট্ট  জান্নাতুল ফেরদৌসকে (৯)। এক বছর মায়ের দেখা পায়নি শিশুটি। গত বুধবার জান্নাতুলের মা ফিরোজা বেগম চাঁদপুরে নিজ বাড়ির সামনে নির্জীব পড়ে থাকতে দেখেন তার মেয়েকে। জান্নাতুলের ছোট্ট শরীর জুড়ে শুধু নির্যাতনের দাগ। মাথা গুরুতর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত।

শিশু জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নয়ানী গ্রামে। তার বাবার নাম মন্টু মাতব্বর। জান্নাতুল হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা যায়, হাইমচরের মোস্তফা সরদার নামে এক ব্যক্তি টাকার প্রলোভন দেখিয়ে জান্নাতুলকে গাজীপুর নিয়ে আসেন কাজ করানোর জন্য। মোস্তফা গাজীপুরে তার শ্যালিকা মনি বেগম ও তার স্বামী ওমর ফারুকের বাসায় কাজ করতে দেন জান্নাতুলকে।  এক বছর চরম নির্যাতনের শিকার হয় শিশু জান্নাতুল। তার শরীরে ইলেকট্রিক যন্ত্র দিয়ে নির্যাতন চালানো হতো বলে জানায় জান্নাতুল। জান্নাতুলের মাথায় বড় ধরনের আঘাতের দাগ।  শিশুটির মাথা টাইলসের সঙ্গে অনেকবার আঘাত করা হয়েছে।

গত বুধবার মোস্তফা সরদারকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুর পুলিশের একটি দল গাজীপুর পুলিশের সহায়তায় জয়দেবপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার  শামছুন্নাহার  জানান, আটক মোস্তফা সরদারকে নিয়ে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হলেও তার স্ত্রী মনি বেগম পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা.দীপন দে বলেন, ‘জান্নাতকে বর্বর নির্যাতন করা হয়েছে। টাইলসের সাথে আঘাত করে মাথায় ক্ষত সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে গরম খুন্তি ও বিদ্যুতের তার দিয়ে আঘাত করা হয়। জান্নাতকে পুরোপুরি সুস্থ করতে অন্তত ২০ দিন লাগতে পারে।’
হাইমচর থানার ওসি (তদন্ত) মো.আলমগীর বলেন, ‘যেভাবে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। এ ঘটনায় পুলিশ সাধারণ ডায়েরি করেছে।’

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × five =