শুধু ঢাকা নয়, সমস্ত দেশেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার:বিবিসি’কে প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বাহক এডিস মশার বিস্তারে শুধু সিটি কর্পোরেশনকে দোষ না দিয়ে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।লন্ডনে বিবিসি বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে গণতন্ত্র, ডিসেম্বর মাসের নির্বাচন, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি, পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা সংক্রান্ত গুজব, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন।

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ডেঙ্গু। ডেঙ্গু রোগের জীবাণুর বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।তবে সিটি কর্পোরেশনগুলো এডিস মশা সম্পর্কে একেবারেই কোন ব্যবস্থা নেয়নি বা মশা নিয়ন্ত্রণকে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করে সময়মত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিবিসি’র এমন অভিযোগ মানেননি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, একটু উচ্চবিত্ত যারা, সেইসব জায়গাগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি। আমাদের সবসময় লক্ষ্য থাকে বস্তি এলাকা, ড্রেন এসব দিকে। মশা মারা কিন্তু নিয়মিত একটা ব্যাপার।

শেখ হাসিনা বলেন, মশার ওষুধ কেনার ব্যাপারে টেন্ডার করা হয়। যারা টেন্ডারে উপযুক্ত হয়, তারা কিনে নিয়ে আসে এবং সেগুলো ব্যবহারও হয়। তবে কোন ওষুধ এডিস মশার উপরে কাজ করে, সেই ব্যাপারে বিভক্তিকরণ করা হয়নি বা সেই ধরনের সতর্কতা ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে ডেঙ্গু বিষয়ক খবর অনেক বেশি প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর ফলে মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ছে, আর সেটাই সমস্যা সৃষ্টি করছে।

প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, সরকারি হিসেবেই বলা হচ্ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং এর সংখ্যা আরও বড় হবে বলে অনেকে মনে করেন। তাই কিভাবে ভবিষ্যতে মশা নিয়ন্ত্রণ আরও সুষ্ঠুভাবে করা যায়?

জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সরকারের পাশাপাশি তার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে আহ্বান করা হয়েছে।“শুধু ঢাকা নয়, সমস্ত দেশেই একটা পরিচ্ছন্নতা অভিযান দরকার।”যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো ঘরের কাছে বা ঘরে কোথাও যদি পানি জমা থাকে এবং সেখানে মশার লার্ভা তৈরি হয়, তবে তাদের জরিমানা করা হবে। মানুষ যদি আগামীর জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হবে না বলে মনে করেন তিনি।
পদ্মা সেতুতে মানুষের কাটা মাথা লাগার গুজব এবং এর জেরে ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কজন মানুষের মৃত্যু বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

যারা গুজব ছড়াচ্ছে, এরকম কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। আপনিই বলুন আজকের দিনে, পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা ও রক্ত লাগবে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। রক্ত আর কাটা মাথা দিয়ে কি সেতু তৈরি হয়? এই গুজবটা যারা ছড়াচ্ছে, অপরাধী তো তারা।

পদ্মা সেতুর ব্যাপারে শুরু থেকেই একটা চক্রান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও অমানবিক কায়দায় অত্যাচারের গুরুতর অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।তিনি বলেন, এক শ্রেণীর মানুষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়ে “অপপ্রচার” চালাচ্ছে এবং এরা সেই মানুষ যারা “সারাক্ষণ খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাদের পেছনে” লেগেই আছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × four =