শেষ হলো ১১১ ঘণ্টার ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

শেষ হলো ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর মধ্য দিয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলে টানা ১১১ ঘণ্টার অভিযান শেষ হলো। ভবনটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে। সিলেটের শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল ঘিরে জঙ্গি বিরোধী সেনা অভিযানের চতুর্থ দিনে অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করলেন সেনাবাহিনী। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলের অভিযানকে জাতীয় দুর্যোগে সামরিক ও বেসামরিক মেলবন্ধনের অপূর্ব উদাহরণ বলে উল্লেখ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

শনিবার সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ শুরুর পর থেকে থেমে থেমে চলেছে গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ। বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত  শক্তিশালী বোমার বিষ্ফোরণ ঘটেছে আতিয়া মহলের ভেতরে। এলাকাবাসী এই ৪দিনের ভয়াবহ বিষ্ফোরণে তাদের বন্দীদশার আতঙ্ক কাটতে আরো সময় লাগবে মনে করছেন ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্টে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণার কথা জানান সেনা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালক  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান। অভিযান শেষ করে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া ভবনের নিয়ন্ত্রণ  পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে জানান তিনি । সোমবার সেই  ভবনের নিচতলায় চারটি মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি ।
ফখরুল আহসান জানান, আতিয়া ভবনে দু’জনের শরীরে সুইসাইডাল ভেস্ট (আত্মঘাতী হামলার জন্য বিস্ফোরকভর্তি বন্ধনী)  এর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। ভবনটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় আতিয়া মহল থেকে চারটি মৃতদেহ বের করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন তাঁরা । পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, নিহত চারজনের মধ্যে একজন মাঈনুল ইসলাম ওরফে মুসা। তাঁরা জানান, মুসা যে ছবি দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেই ছবির সঙ্গে পুলিশের কাছে থাকা মুসার ছবির মিল দেখে সেনাবাহিনী  তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছেন।

সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল  সূত্র আরো জানান  জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অবিস্ফোরিত অবস্থায় হাতে তৈরি গ্রেনেড ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এ ধরনের গ্রেনেড খুব বিপজ্জনক। বিশেষ করে যদি পিন খোলা অবস্থায় কোনো গ্রেনেড পড়ে থাকে, তাহলে যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এ কারণে সেখানে আরও তল্লাশি চালানো হবে।

মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে চারটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট ও পাঁচটার দিকে আরও দুটি বিস্ফোরণ শোনা যায়। এ সময় ধোঁয়া দেখা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,  আতিয়া ভবনে জঙ্গিদের বিষ্ফোরণের কারণে ভবনটি নড়বড়ে হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

আজ সকালে আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল অভিযান চালায়। সেখানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওই ভবনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্য শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা হয়।

আতিয়া মহলের আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। আতিয়া মহল ঘিরে তিন বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা এই বাড়ি গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় ঘিরে ফেলে পুলিশ। গত শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত সেই অভিযানে অংশ নেয়। এরপর গত শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে  অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায়  ফেলে রাখা গ্রেনেডের দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং র‍্যাবের প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ সহ আরও ৪৪ জন আহত হন।

পুলিশের সূত্রে প্রকাশ, ভেতরে যে নারীর লাশ পাওয়া গেছে তার নাম মর্জিনা ওরফে মঞ্জু আরা। তিনি জেএমবি নেতা ফাহিমের স্ত্রী। অন্য তিন জন হলেন মাঈনুল ইসলাম ওরফে মূসা, সোহেল ও রাফিদ আল হাসান।

এর আগে সোমবার  সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, ‘নিচতলা থেকে চারটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য ছিল ওই ভবনের নিচ তলায় চারজন আছেন। এর মধ্য তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী। আমরা দুটো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি। বাকি দুটি মরদেহে আত্মঘাতী বেল্ট লাগানো আছে। ওই ভবনে যে পরিমাণ বিস্ফোরক আছে তাতে পুরো ভবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই দেখে শুনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যারা ভেতরে ছিল তারা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত। এটা সেনাবাহিনীর বিশাল সফলতা। আমাদের অপারেশন চলমান আছে। ধারণা করা হচ্ছে  ভবনের নিচতলায় আর কেউ জীবিত নেই।’

সোমবার সকালে জঙ্গি দমন অভিযানের  এক পর্যায়ে সেনা কমান্ডোরা আতিয়া মহলের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকে।আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের ওয়েবসাইটে অভিযানের ভিডিও তে দেখা যায়,  সেখানে প্যারা কমান্ডোদের হাতুড়ি ও কুড়াল দিয়ে দেয়াল ভাঙতে হয়েছে সেনা কমান্ডোদের।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 5 =