শৈলকুপার মন্ডল সন্তানেরা পুলিশের সহায়তায় নিরাপদে ফিরে এলো মায়ের কাছে:সন্ত্রাসীরা পলাতক

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামের মন্ডল পরিবারের সন্তানেরা তাদের পিতৃপুরুষের ভিটেতে ফিরে এসেছেন ১০ দিন পর। ১০ এবং ১১ মে  তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাড়ি ফিরেছেন বলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানান। । পয়লা মে দেশ ছাড়া হয় পরিবার টি ।প্রশাসনের সহায়তায় আবার পিতৃপুরুষের ভিটে ফিরে পেলো তারা । তবে মন্ডল পরিবারের উপর হামলাকারী  চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকাছাড়া। তাদের কেউ এখনো গ্রেফতার হয়নি। ১১ মে রাতে সমরেন মন্ডল সূর্যবার্তা২৪.কমকে বলেন, “সন্ত্রাসীদের ভয়ে এলাকা ছেড়েছিলাম। কাউকে পাশে পাইনি তখন। ভাবিনি আবার দেশে ফিরে  আসতে পারবো। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাস এবং সহযোগিতায় আবার ফিরে এসেছি মায়ের কাছে; পিতৃপুরুষের ভিটেয়। এখন নিরাপদ বোধ করছি ।তবে সন্ত্রাসীদের শাস্তি না দিলে এমন প্রত্যন্ত জনপদে বসবাস করা কঠিন হবে। মন না চাইলেও প্রাণ রক্ষায় আবার হয়তো ভিটেমাটি ছেড়ে পালাতে হবে। ”

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাদপাড়া গ্রামে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভয়ে একমাসের মধ্যে তিনটি হিন্দু পরিবার গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। শেষ ঘটনা ঘটে ১লা মে রাত নাগাদ। জমিজমা বিক্রি করার পর সমরেন মন্ডল ও বিপুল মন্ডলকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল একই গ্রামের মোহন,জালাল, আউশিয়াগ্রামের বদর, আশরাফুল ও নবু, তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীরা। দাবি করা চাঁদার টাকা দিতে ব্যর্থ হবার কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে মন্ডল বাড়ির বাড়ির বারান্দায় অবস্থান নিয়ে নেশা করতো এবং অকথ্য গালাগাল করে গভীর রাতে ফিরে যযেতো।

।গত শুক্রবার সন্ত্রাসীচক্রটি সমরেণ ও বিপুলের বাড়িতে চড়াও হলে একপর্যায়ে তারা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
প্রতিবেশীরা জানান, ভয়ে শুক্রবার  দুই ভাই পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান। তাদের বৃদ্ধা মা নির্মলা মন্ডল প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে পালাবার সময় পেয়েছেন কিন্তু মাকে নেবার সময় পাননি ।বৃদ্ধা মা নির্মলামন্ডল প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

সন্তানেরা ফিরে আসায় কিছুটা  নিশ্চিন্ত  নির্মলা অরক্ষিত স্বামীর ভিটেয় আবার ফিরে গেছেন। জীবনসায়াহ্ণে এ সমাজের কিছু মানুষের নিপীড়ন, অন্যায় আর অত্যাচারে বঞ্চনায় হতাশ নির্মলা আশায় বুক বাঁধেন, সরকার তাঁদের পরিবারকে অত্যাচারী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করবেন। ৭০ বছরের নির্মলা মন্ডল ভালো করে কথা বলতে পারেন না, তাঁর চোখ দিয়ে শুধু জল ঝরছে, জীবনের শেষবেলাতে জন্মভূমি র জীবনকেএমন বিপন্ন করে তুলবে , তা ভাবেন নি কখনো।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − twelve =