শোকদিবসের প্রথম প্রহরে এবার কেক কাটলেন না খালেদা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট
খালেদা জিয়ার পাসপোর্ট

বিতর্কিত জন্মদিনে এবার আর মধ্যরাতে কেক কাটলেন না খালেদা।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রের কারণে এ দেশের কিছু  সেনাসদস্যের হাতে জীবন দিয়েছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ  প্রথম বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পর এ দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। সেই সময় থেকেই হঠাৎ করে  খালেদা জিয়া কেক কেটে তার জন্মদিন  পালন শুরু করেন। যা পালনের কঠোরভাবে ম,আলোচিত হয়ে আসছে প্রথম থেকেই।  ২৮ মে ২০১৪ ইস্যু করা পাসপোর্টে ও খালেদা জিয়ার জন্মদিন ৫ আগষ্ট ১৯৪৬। তাহলে কেন ১৫ আগষ্টেই তাকে  বিশাল কেক কেটে আড়ম্বর করে জন্মদিন পালন করতে হয় ?  এ কি কেবলি বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা?
২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করেছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে। এই টেলিফোন সংলাপের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গত ১ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়াকে আবারও জন্মদিন পালন না করার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। তিনি বলেছিলেন, ১৫ আগস্ট যদি সত্যিকারের জন্মদিন হয়ে থাকে তাহলেও ১৬ বা ১৭ আগস্ট যেন খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করেন।এ পরিস্থিতিতে এ বছর ১৫ আগস্টের প্রথম  কেক কাটা নিয়ে বিএনপির মধ্যেও বেশ দ্বন্দ্ব ছিল।

২০০৯ সালে ১৪ আগস্ট ছিল শুক্রবার। ওই দিন দিবাগত রাতে মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে যুবদলের নেতা-কর্মীরা দলের নয়াপল্টন কার্যালয়ে ৬৫ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে সব সময় বলা হয়, খালেদা জিয়া নিজ থেকে জন্মদিন পালন করেন না। এটি নেতা-কর্মীদের আবেগের বিষয়। সম্প্রতি দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপনও এই বক্তব্য দিয়েছেন।

বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে কেক নিয়ে যাওয়ার জন্য কার্যালয় থেকে এক ধরনের নির্দেশনা তাঁরা পেয়ে থাকেন।প্রতিবছর ১৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে নেতা-কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই রেওয়াজ শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, বিএনপি বিরোধী দলে যাওয়ার পর থেকে।

বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো বলছে, আজ শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে জন্মদিনের কেক কাটতে পারেন খালেদা জিয়া।
এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বড় ছেলে তারেক রহমান খালেদা জিয়াকে ফোন করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ সময় তারেক রহমানের সন্তানেরা দাদি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়।

১৯৯১ সালের ২০ মার্চ খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকারিভাবে গণমাধ্যমে তাঁর যে জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো হয়েছিল তা ২১ মার্চ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়। তাতে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।১৯৯৬ সাল থেকে এ দিনটিতে কেক কেটে জন্মদিন পালন শুরু হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীয় মিন্টুরোডের সরকারি বাসভবনে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা শুরু করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three + eighteen =