শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে আইনশৃঙ্খলা মন্ত্রণালয় নিয়ে নিলেন রাষ্ট্রপতি, গ্রেপ্তার ৮১

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নতুন করে গোষ্ঠী সংঘর্ষের কারণে বৃহস্পতিবার দেশের আইনশৃঙ্খলা মন্ত্রীর পদ থেকে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংঘেকে সরিয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপাল সিরিসেনা। দেশে জরুরি অবস্থা জারি সত্ত্বেও ক্যান্ডিতে সিংহলি বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের খবর মিলেছে।

তাই, মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা মন্ত্রীর দায়িত্ব কেড়ে নেওয়া হল বিক্রমসিংঘের কাছ থেকে। এদিন সকালে দেশের নতুন আইনশৃঙ্খলা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বিক্রমসিংঘের ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) বর্ষীয়ান সদস্য রঞ্জিত মাদুমা বান্ডারা। মুসলিমদের ব্যবসা এবং ধর্মীয় স্থানে সিংহলি বৌদ্ধরা আক্রমণ করায় সরকারকে নতুন করে কার্ফু জারি করতে হয়েছে।

গোষ্ঠী সংঘর্ষে বিধ্বস্ত এলাকায় বুধবারই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। ব্লক করে দেওয়া হয় হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলিও। সরকারি তথ্যকেন্দ্রের ডিজি সুদর্শন গুণবর্ধনে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের অনুরোধে এবং তাঁদের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ছ’টা পর্যন্ত ক্যান্ডিতে কার্ফু শিথিল করার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা। যাতে সবাই খাবার ও অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী কিনতে পারেন। তারপর ফের কার্ফু বলবৎ করা হয়।

নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যান্ডিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত সহ ৮১ জন সন্দেহভাজনকে। মুসলিমদের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে এদিন পার্লামেন্টে সরব হন শ্রীলঙ্কার প্রধান তামিল পার্টি টিএনএ’র নেতা আর সম্পানথন। বিরোধী দলনেতা সম্পানথন প্রশ্ন তুলেছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
এদিকে, আমেরিকা এদিন বলেছে, শ্রীলঙ্কার জাতীয় নিরাপত্তাকে তারা শ্রদ্ধা করে। কিন্তু, কলম্বোর উচিত নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকারকে সুনিশ্চিত করা। শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারির প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাতায় রেখেও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গণতান্ত্রিক সরকারের উচিত নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান জানানো।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 × 5 =