সন্ত্রাসের আতুরঘরের বিশ্ববেহায়ার দল ও তাদের এদেশীয় রাধারা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

একাত্তরে পাকিস্তানের পরাজয় পাকিস্তান কখনই মেনে নিতে পারে নাই, এই পরাজয় যতটা না ছিল সামরিক, তার চেয়ে অনেকগুণ বেশী ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক।

আর এই মেনে নিতে না পারার জন্যে তারা কখনই নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নাই, যুদ্ধবন্দিদের বিচার করে নাই ।

সেই সূত্রেই জঙ্গি – জাল মুদ্রা – অস্ত্র পাচার – চোরাচালান ও ‘৭৫ সহ বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ প্রতিটা অভ্যুথান, নাশকতা ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে পাকিস্তানের যোগসূত্র প্রমান স্বরূপ উঠে এসেছে।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দণ্ডাদেশ কার্যকরের ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করে বাংলাদেশে গিয়ে এই দুই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে পাকিস্তানে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাইকমিশনার প্রিন্স জেইদ বিন রা’দ আল হুসেইনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিনেটর রেহমান মালিক।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের দুই নেতা ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ডের’ শিকার হয়েছে অভিযোগ করে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কাছে চিঠি লেখা হয়েছে।( ২ – ১২- ২০১৫)
নিজামীর ফাঁসির পর আবারও অবাঞ্ছিতভাবে বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটাই ছিল নিজামীর একমাত্র পাপ।

বুধবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিজামীর পক্ষে এভাবেই সাফাই গেয়ে বিবৃতি দেয় দেশটি।
আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পত্রে বাংলাদেশ বলেছে, ‘’যেসব বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী ও গণ হত্যার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিবার তাদের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তান প্রমাণ করেছে, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত অত্যাচারের সঙ্গে পাকিস্তান সরাসরি জড়িত ছিল।

এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পাকিস্তান ভুলভাবে ক্রমাগত এ অপরাধীদের পক্ষ সমর্থন করছে।

পাকিস্তানের এ ধরনের প্রতিক্রিয়া একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল এবং এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বাংলাদেশ সরকার পুনরায় বলতে চায়- একটি স্বাধীন, যুক্তিসঙ্গত, ন্যায্য, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মতিয়ুর রহমান নিজামীর বিচারের রায় দেওয়া হয়েছে এবং এখানে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল না।

এ বিচার প্রক্রিয়ায় শুধু ১৯৭১ সালে নিজামীর করা অপরাধগুলো বিবেচনা করা হয়েছে এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় এখানে কোনওভাবেই বিবেচ্য ছিল না। এ বিচার প্রক্রিয়া ‘বিতর্কিত’, পাকিস্তানের এ মন্তব্যকে আনুষ্ঠানিক পত্রে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। একটি সার্বভৌম দেশের স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়াকে পক্ষপাতদুষ্ট, ত্রুটিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন বলা পাকিস্তানের উচিৎ নয়। পাকিস্তান সব সময়  ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি তাদের নিজেদের মতো করে  ভুল, সীমিত ও আংশিক ব্যাখা দিয়ে থাকে।

অথচ তারা কখনোই বলে না , সেই চুক্তির মূল বিষয়বস্তু ছিল সুষ্ঠু প্রতিবেশীসুলভ পরিবেশ তৈরি করা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। সেই চুক্তি কখনই বলেনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যাবে না।

বরঞ্চ পাকিস্তান তাদের নাগরিক যারা ১৯৭১ সালে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তাদের বিচার করেনি। বাংলাদেশ সরকার দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করছে, বারবার বলার পরও পাকিস্তান এ বিচার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পূর্ণ প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে’’।
করাচীর সাংবাদিক বলেছেন. ”১৯৭১ সালে একটা অন্যায় করা হয়েছে তিনি ও তার দেশের নাগরিকরা মনে করেন বলে বলেছেন’’ ! ৭১ এর ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যার, বুদ্ধিজীবী নিধনের ইতিহাস, নারীর সম্ভ্রম হানি সহকারে নৃসংশ ভাবে হত্যা কিংবা পাকিস্তানি বীজ বপনের পরিকল্পিত ইতিহাস সম্পর্কে গত বিশ্ব জেনেছিল বিদেশী সংবাদিকদের তথ্য – ভিডিও চিত্র ও প্রতিবেদনের মাধ্যমেই;পাকিস্তান থেকে পালিয়ে নির্মমতার ইতিহাস নিয়ে বই লিখেছিলেন ওদের ই এক নাগরিক সংবাদিক !

তারপরেও ১৯৭১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে একের পর এক মিথ্যাচার ও হঠকারিতা করে এসেছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচার তারা করেনি। বরং সম্প্রতি দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরপরই পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়। পাকিস্তান পার্লামেন্টেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ সবই ছিল রীতিমতো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।

এরপর পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে বাংলাদেশ যে প্রতিবাদ জানায় তা সর্বাংশে যথার্থ ছিল । (অন্যায় ? লক্ষ  লক্ষ নিরীহ মানুষ হত্যা, লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হানি অন্যায় ? বুদ্ধিজীবী হত্যা অন্যায় ? কোন্ গালি যে দেবো- গালিও  পাইনা)
আরেক দল,  যারা অভিমানের রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছেন ! তাদেরও ভাবা উচিত, প্রতিক্রিশীল অপশক্তি কখনোই বিপ্লবে সাহায্য করবে না; তাই কর্নেল তাহেরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গা ছিল খুব সহজসাধ্য !
২০১৩ সালে  ইতিহাসবিদ বর্তমানে প্রয়াত অধ্যাপক সালাহ্উদ্দীন আহমেদের সমকাল পত্রিকার নাসির আহমেদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ।

অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল জিয়ার সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি পাকিস্তানে ছিলেন। সেখানেই লেখাপড়া করতেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সামরিক গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেছেন। তাই ক্ষমতায় আসার পর তার পাকিস্তানি মানসিকতার পরিচয় একে একে প্রকাশ পেতে থাকে। সেনাছাউনিতে যার জন্ম, সেই বিএনপি যে একটা ‘প্রো-পাকিস্তানি পার্টি’, এর মূলেও জিয়ার মানস গঠন কাজ করেছে; যা সেই দলের নীতি হিসেবে আজও অব্যাহত আছে। বিএনপি পাকিস্তানি রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাস করে।

জিয়ার শাসনামলের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক ছিল রাজনীতির সামরিকীকরণ ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান”।

সেইজন্যেই হয়ত আজো বেশিরভাগ বিএনপি নেতা কর্মী সমর্থকও জামাতি ও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে পিতৃবিয়োগের মতো যন্ত্রণা বোধ করে !
অন্যান্য ঘটনার কথা যদি বাদও দেই আর খুব সদ্য কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয় তাহলে খুবই পরিস্কার হবে যে, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ উম্মুখ পাকিস্তান আরেকটি ‘৭৫ এর জন্যে এখন মরিয়া !

 ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে  পাকিস্তান হাইকমিশন কর্মকর্তা ফারিনা আরশাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ হবার পর  ঢাকা থেকে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় পাকিস্তান সরকার।

অপরাধ করার পরও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশি নারী কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশের প্রতি অনুরোধ জানায়। অথচ তাঁকে প্রত্যাহারের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি পাকিস্তান সরকার। মৌসুমীর ব্যাপারে পাকিস্তানি মিডিয়াগুলোও কোনো অভিযোগ তোলেনি। বরং ডন ও দ্য নিউজের মতো প্রভাবশালী সংবাদপত্র বিষয়টিকে ‘বহিষ্কার পাল্টা-বহিষ্কার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বাংলাদেশের পাট রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান। দেশটির সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ নিজেদের দেশে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহারের বদলে পাট ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য ২০১৫ নভেম্বর মাস থেকে এক মাসের জন্য পাট রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ডিসেম্বর মাসে সেটি বাড়িয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল ।
‘বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এদের অধিকাংশই জঙ্গি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন।

অনুসন্ধানের পরে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, এসব পাকিস্তানি নাগরিক আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বোমা বানানো, নাশকতা করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়াসহ নানা বিষয়ে এরা পারদর্শী।

ভ্রমণের নামে গত তিনমাসে এসব নাগরিক বাংলাদেশে এসেছেন বলে জানা গেছে, এদের অনেকে মাসে ৪ থেকে ৫ বার যাতায়াত করেছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। অতীতে এতো পাকিস্তানি নাগরিক ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশে আসেনি বলে জানিয়েছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থা। বাংলাদেশি জঙ্গিদের একটি অংশকে পাকিস্তানের গ্রুপ অর্থ সহায়তা দিয়ে সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তথ্য পেয়েছে দুইটি গোয়েন্দা সংস্থা। জাল মুদ্রার ব্যবসা করে লভ্যাংশ দিচ্ছে জঙ্গিদের।সোনা চোরাচালানের একটি বড় অংশ পাঠানো হচ্ছে ভারতে।
বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরিতে তিনটি হ্যাকার গ্রুপ এর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই সাইবার আক্রমণের বাংলাদেশের নিযুক্ত করা সিলিকন ভ্যালির সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ফায়ারআই এর তদন্ত কারীরা’ যার মধ্যে একটি গ্রুপ পাকিস্তানের। এবং পাকিস্তানিদের ভিসা দেয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায়।
এদিকে  বিশ্লেষক ও গবেষক আবদুল মান্নান সদ্য প্রকাশিত নিবন্ধে পাই আরো বিশদ পাকিস্তান সংশ্লিষ্টতা।সবশেষে দেশের একটি প্রথম সারির সংবাদপত্রে খবর পরিবেশিত হয়েছে এসব ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের জড়িত হয়ে পড়ার খবর । আর তাদের সঙ্গে এই সংযোগ স্থাপনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে গেছে পাকিস্তানি ঘরানার রাজনীতিতে বিশ্বাসী দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি।

গত ৫ মে দৈনিক ইত্তেফাক খবর দিয়েছে কলকাতা, দিল্লি ও লন্ডনে গত মার্চ মাসে একাধিক বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রভাবশালী নেতা মেন্দি এন সাফাদি, বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা, একটি ইসলামী দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং এতে মোসাদের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করা একজন ব্যক্তি এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। লন্ডনে বৈঠক চলাকালে বাংলাদেশে একজন বিএনপি নেতার সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার তথ্যও বর্তমানে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের কাছে আছে।
দৈনিক ইত্তেফাক গত ৯ মে প্রথম পৃষ্ঠায় নয়াদিল্লিতে এমন একটি বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের একটি গ্রুপ ছবি ছেপেছে, যাতে অন্যদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব চট্টগ্রামের জাহাজ ব্যবসায়ী আসলাম চৌধুরী ও বাংলাদেশে মোসাদের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত সিপান কুমার বসু মোসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পোজ দিয়েছেন।

একাধিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান সরকারের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া দৈনিক আমার দেশের সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী যিনি ঘন ঘন এসব বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য ভারত সফর করেন। সঞ্জীব চৌধুরী ধর্মীয় সংখ্যালঘু হলেও তিনি জামায়াত-বিএনপি রাজনীতির একজন কট্টর সমর্থক, সাংবাদিক মহলে তিনি অনেকের কাছে সাংবাদিকদের ‘বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়’ হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামের বাসিন্দা এই সঞ্জীব চৌধুরী একসময় বিএনপির একজন শীর্ষ নেতার মালিকানাধীন একটি বেসরকারি টিভিতেও কর্মরত ছিলেন। আসলাম চৌধুরী একজন বড় মাপের ঋণখেলাপি। সাকা চৌধুরীর ছত্রচ্ছায়ায় তাঁর রাজনীতিতে আসা। ২০০৮ সালে সীতাকুণ্ড আসন থেকে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের কাসেম মাস্টারের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। জাহাজভাঙা ব্যবসার সূত্রে তিনি বিদেশে অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। একসময় তিনি কেআরএমএম স্টিলে কাজ করতেন। সিপান কুমার বসুর বাড়ি খুলনায়। বিয়ে করেছেন গোপালগঞ্জে। এই ষড়যন্ত্র চক্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যোগ হয়েছে ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই ষড়যন্ত্রের ইন্ধন জোগাচ্ছে জামায়াতের সিনিয়র একজন আইনজীবী ও তাদের ব্রিটিশ লবিস্ট ও আইন উপদেষ্টা টবি ক্যাডমেন, যাঁকে বিরাট অঙ্কের অর্থ দিয়ে ভাড়া করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাত থেকে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বাঁচানোর জন্য। বর্তমান সরকারের দৃঢ়তার কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় বর্তমানে সেই আইনজীবী ও ক্যাডমেন বেশ বেপরোয়া। অভিযোগ আছে, তাঁরা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আরো গভীরভাবে সম্পৃক্ত থেকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছেন। অন্য আরেকটি পত্রিকা সংবাদ দিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের ২০০ নেতাকর্মী পাকিস্তানে কমান্ডো ট্রেনিং নিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছে। সৌদি আরব এমনিতেই ইসরায়েলের একজন পরীক্ষিত বন্ধু। বর্তমান বাদশাহ সালমানের আমলে সেই বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হয়েছে। পানামা ডকুমেন্ট প্রকাশ করেছে বাদশাহ সালমান ২০১৫ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী তহবিলে ৮০ মিলিয়ন ডলার চাঁদা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানের আইএসআই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের মোসাদের সঙ্গে কাজ করে আসছে। ইতিমধ্যে নিজামীর ফাঁসির চূড়ান্ত রায় প্রকাশ হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন”।
বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে একমাত্র মিসরের কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে। সৌদি আরবের সঙ্গে আছে গোপন সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক সৃষ্টিতে বিভিন্ন সময় সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র সে কারণেই বিভিন্ন অজুহাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চায় বলেই বাংলাদেশে, তাদের ভাষায় জঙ্গি তত্পরতা বন্ধ করতে তারা সহায়তা করতে প্রস্তুত। এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অযাচিতভাবে সহায়তা দিতে এলে তার ফল কী হতে পারে মিসর, লিবিয়া, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান তার জ্বলন্ত উদাহরণ’’।
বাংলাদেশের চাইতে হাজার গুনে বেশি মানবতর দিন যাপন করে চলেছে দক্ষিন আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মানুষ, অর্থনৈতিক শুধু না, জীবন হাতে করে হাটছেন ধর্ম এবং সংস্কৃতির প্রবল প্রতাপ ও একচ্ছত্র দাপটে, দিনে দুপুরে ঘটছে নৃশংস হত্যাকান্ড, যা ওখানকার অধিবাসীদের কাছে হয়ে যাচ্ছে গা সওয়া কিন্তু সেখানকার কোনো লেখক – সাংবাদিক – একটিভিস্ট – রাজনীতিবিদ – পুরোহিত এর উদ্দেশ্যে ইউরোপ বা আমেরিকা আগ্রহ দেখাচ্ছে না ! এই সকল জায়গা গুলো থেকে আসা যেসব মানুষ ২০ বছর আগে দেশ ছেড়েছিল তাদের কাছে তাদের দেশের খবখর শুনি আর ভাবি, কিন্তু কেন ?

কেন এই বাংলা প্রীতি ?
পরিশেষে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে মনে করেন, যারা বুকের পাঁজরে প্রথম পিরিত হিসাবে পাকিস্তানের নাম লিখে রেখেছেন-, যারা যুদ্ধাপরাধীদের নেতা পান্ডাদের লালনপালন করে গিয়েছিলেন এবং এখনো প্রচেষ্টায় আছেন, যেসব গাদ্দার সে তারা যে ধর্মের ই হোক না কেন দেশে বিদেশে বসে দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়ে একদিকে ধর্মীয় অনুভূতির পায়ের তলায় সুড়সুড়ি দিয়ে ধর্ম নিয়ে পুরানা গুটি চেলে মানুষ হত্যা করছেন।

তাদের উদ্দেশ্যে স্বদেশ রায়ের নিবন্ধ থেকে চুরি করে বলতে চাই, ” মানুষ যখন শয়তানের কাছে আত্মা বিক্রি করে তখন তিনি আর মানুষ থাকেন না। এমনকি শয়তানের যে সব কীর্তি কাহিনী পুরকথায় পড়ি তাতে তিনি পুরোপুরি শয়তানও হতে পারেন না। তাই তাঁর অবস্থানটি হয় আরো খারাপ।

যে তরুণ প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সারাদেশে রাজপথে নেমে এসেছিল তাদের কিন্তু হেফাজতের মতো ইসলামী ব্যাংক, আইএসআইয়ের, অথবা মোসাদের টাকা দিয়ে আনা হয়নি। প্রাণের টানে এসেছিল। ওই প্রাণের শক্তিকে একটু মাথায় রাখা ভাল। কারণ, পৃথিবী বহে নিরন্তর। এর শেষ নেই কিন্তু।’
(জ.শ.তিমির )
তথ্যসূত্র : নেট, বিডি নিউজ প্রতিবেদন // কালের কন্ঠ : ৫/১১/২০১৬ লেখক গবেষক আবদুল মান্নান নিবন্ধ // ০৮-১১ – ২০১৫ – ইত্তেফাক – আবুল খায়েরের প্রতিবেদন ”বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিক বাংলাদেশে অধিকাংশই জঙ্গি প্রশিক্ষক”//১২ মে ২০১৬ – কূটনৈতিক রিপোর্টার/জনকন্ঠ প্রতিবেদন//১২ মে ২০১৬ – বিবিসি বাংলা প্রতিবেদন ও বিডি নিউজ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four + 12 =