সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ-কুয়েত একযোগে কাজ করবে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশ ও কুয়েত সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থাকে মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ হিসেবে আখ্যায়িত করে একযোগে কাজ করার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছেছে।এ বিষয়ে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদ সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এবং সমগ্র মানবতার জন্যই বিরাট চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে এটি মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান, তিনি যখন সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তখন ১৯৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সে সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুয়েতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে তার সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।
মুসলিম উম্মার ঐক্যের ব্যাপারে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ ও কুয়েত কিভাবে কাজ করতে পারে, তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ বিষয়ে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের সঙ্গে যুদ্ধে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
এছাড়াও দুটি দেশ অর্থনীতি, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, জনশক্তি রপ্তানি, সামরিক ও আইসিটি ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়ে একমত হয়েছে।
গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সফররত কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল মুবারক আল হামাদ আল সাবাহ কুয়েতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এবং বাংলাদেশি পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১৫ মিনিট সময়কাল একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, উষ্ণ এবং সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের সরকার প্রধানের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দুই দেশের সামগ্রিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, বৈঠকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদের প্রশ্নে তাদের জিরো টলারেন্স নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ ব্যাপারে বৈঠকে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে জাতিসংঘ এবং ওআইসির নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে।
কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান এবং পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সিরিয়া এবং লিবিয়াতে সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যাবলি সমাধানে একযোগে কাজ করার বিষয়েও দুই প্রধানমন্ত্রীর মতানৈক্য হয়।
এছাড়া, দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় সমস্যাকবলিত দুটি দেশের সংকটে সৃষ্ট জনগণের ‘ডিসপ্লেসমেন্ট’র বিষয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্যিক ব্যবধান হ্রাস, কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার মতো ছয়টি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে আইটি ও শিল্পে বিনিয়োগের জন্য কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান। জবাবে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী অনুরোধ গ্রহণ করে বলেন, তার সঙ্গে সেদেশের একটি বড় প্রতিনিধিদল রয়েছে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে এফবিসিসিআইর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জ্বালানি খাতকে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জ্বালানি সম্পদে কুয়েতের ব্যাপক অভিজ্ঞতা থাকায় সেদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি অনুসন্ধানে বাংলাদেশকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস প্রদান করে বলেন, বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে দু’দেশ যৌথভাবে কাজ করতে পারে।
বিদ্যমান বাণিজ্যিক ব্যবধান আরও হ্রাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ বাণিজ্য কমিটি গঠন এবং কুয়েতে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন।
কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির ব্যাপারে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ পর্যায়ে আলোচনার জন্য একটি প্রস্তাব রয়েছে। কুয়েতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছে।
দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং আগামী দিনগুলোতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। ‘৯০ দশকের গোড়ার দিকে দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি অবকাঠামো খাত বিশেষ করে কেএফএইডিও স্থান পায়। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত আলোচনার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত হয়।বাসস

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 − 2 =