সব আসনেই তাদের বসার অধিকার রয়েছে,এটা ওই উন্নাসিকদের কে বোঝাবে? -ফারহানা মিলি

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ঢাকায় চলাচলকারী বাসগুলোতে মহিলা, শিশু, শারীরিকভাবে অসমর্থ মানুষজন ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য কিছু আসন সংরক্ষিত থাকে … সেসব আসনে পুরুষরা (অবশ্যই পুরুষ শিশু, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসমর্থ পুরুষ বাদে অন্য সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ) বসলে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হবেন এমন একটি আইন করা হয়েছে …

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বাসে মহিলাদের যাতায়াত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি … কিন্তু বাসের পুরুষ যাত্রীদের বেশিরভাগই মহিলাদের (যদিও শুধু মহিলাদের জন্য নয়) জন্য আসন সংরক্ষণের বিষয়টায় খুব বিরক্ত … তারা এটাই ধরে নেন যে, মহিলাসহ ওই সংরক্ষিত আসনের দাবিদাররা কেবল ওই ৯টি আসনেই বসবেন. অন্য সাধারণ আসনে তারা বসতে পারবেন না …. সংরক্ষিত আসন থাকার পরেও যে কেবল ওসব আসনেই তারা বসবেন না, সব আসনেই তাদের বসার অধিকার রয়েছে, এটা ওই উন্নাসিকদের কে বোঝাবে?

মেয়েরা এখন যে হারে বাসে যাতায়াত করছেন– কর্মক্ষেত্রের জন্য বাচ্চার স্কুল-কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে, বাজার-হাট করতে, পড়াশুনার জন্য– এই নারীদের জন্য মাত্র ৯টি আসন– তা-ও শিশু , প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসমর্থ মানুষজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া– খুবই অমানবিক … ফলে বেশিরভাগ সিটিং সার্ভিসগুলোতে দেখেছি, নারীরাই দাঁড়িয়ে থাকেন …

নারীদেরও বেশিরভাগ জানেন না যে, ওই সংরক্ষিত আসনগুলোর বাইরে অন্যগুলোতেও তাদের বসার অধিকার রয়েছে .. ফলে তারাও বাসে উঠেই ছুটে যান সংরক্ষিত আসনগুলোর দিকে … না পেলে দাঁড়িয়ে যান .. তবু অন্য সাধারণ আসনগুলোর দিকে এগুন না … খানিকটা ভয়েও বলা যায় .. কারণ তাহলে বীর পুঙ্গবদল রে রে করে ওঠবেন, “আপনাদের জন্য তো সিট রিজার্ভ আছেই .. সেসব ছেড়ে পুরুষদের (!!!) সিটে কেন?” …

নতুন আইনটির জন্য বাসে কাজিয়া-ফ্যাসাদ আরও বাড়বে বলেই ভয় পাচ্ছি … তার চেয়ে বরং সরকারিভাবে এটা করা উচিত ছিল যে, গণপরিবহণে কেবল নারী নয়, শিশু, প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসমর্থ মানুষজনের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা উচিত, তাদের অধিকার কতটুকু এসব নিয়ে প্রচুর নাটিকা, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি তৈরি করে গণমাধ্যমে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া …

আমাদের পুরুষদের বড় একটা অংশ এখনও নারীদের বাইরে যাতায়াতের বিষযটি সহজভাবে গ্রহণ করেননি .. তাদের মনোজগত খানিকটা তৈরি করাও জরুরি …. তার আগে নানা রকম আইন চাপিয়ে দিয়ে গণপরিবহণে নারীদের বিড়ম্বনা বাড়ানো হচ্ছে বলেই আশঙ্কা করছি …

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 10 =