সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জনগণের সেবক হোন: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীকে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের মানুষের ‘সেবক’ হওয়ার আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে পুলিশকে জনগণের সেবক হতে হবে। প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো দাঁড়াতে হবে, যেন মানুষ ভরসা পায়।“

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গত সাত বছরে আমরা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে ৭৩৯টি ক্যাডার পদসহ ৩২,০৩১টি পদ সৃষ্টি করেছি। এ সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়। তাই আমরা আরও ৫০ হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে ২৭৭টি ক্যাডার পদসহ ১৩ হাজার ৫৫৮টি পদে পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।“

বাংলাদেশে ১৯৭৫-এর ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহ পালন করা হয়, এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই প্রথম পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেছিলেন বলে শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহ পালন করা হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেদিন পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রতীক। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রদান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষায় পুলিশের প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর এসব করতে গিয়ে অনেক সময়ই তাদের জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়। বিএনপি-জামাত-শিবিরের সহিংসতা ও জঙ্গীবাদ মোকাবিলায় ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৬ জন বীর সদস্য জীবন দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২১ জনই পুলিশ বাহিনীর সদস্য।“

বীরত্ব ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ১১০ জন পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাপকদেরকে এসব পদক পরিয়ে দেন।

এর মধ্যে বেশ কয়েকজন পুলিশকে মরণোত্তর পদক প্রদান করা হয়। তাঁদের পক্ষ থেকে তাঁদের স্বজনরা এসব পদক গ্রহণ করেন। এসব পদক প্রদানের সময় সেখানে এক আবেগঘন আবহের সৃষ্টি হয়।

পদকগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক সাহসিকতা’, ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক সাহসিকতা’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক সেবা’ ও ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক সেবা’।

এবার ১৯ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম), ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম), ২৩ জনকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা ও ৪০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পদক দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী পুলিশলাইন্স-এ পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক তাঁকে স্বাগত জানান।

প্যারেড ময়দানে পৌঁছে পুলিশ সদস্যদের সালাম গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন। এর পর পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট দর্শনীয় কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান।

এবার প্রথম বারের মত পুলিশ বাহিনীর একজন নারী সদস্য—চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার— প্যারেড কম্যান্ডার হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen + 15 =