‘সময়ের প্রয়োজনে কলমকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছি, প্রয়োজনে রাইফেল হাতে নিতে দ্বিধা করবো না’

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

‘জাতিগত সংখ্যালঘু দের অধিকার রক্ষা করতে হবে, সময়ের প্রয়োজনে কলমকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছি, প্রয়োজনে রাইফেল হাতে নিতে দ্বিধা করবো না’ দৃঢ়তাসমেত উচ্চারণ ছিল উপস্থাপকের কণ্ঠে ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক উদযাপন কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিতে ২ রা ডিসেম্বর শনিবার চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে এক সমাবেশ ও গণসংগীতের আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন আহ্বায়ক তাপস হোড় , মঞ্চে উপস্থিত বক্তব্য প্রধানকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অতিথি সাংবাদিক, কবি ও প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন, বিশেষ অতিথি বিশিষ্ট নারী নেত্রী নুরজাহান খান, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা.এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ।

নুরজাহান খান তার বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানে ক্ষোভ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসূত শক্তির পারস্পরিক বিদ্বেষে উদ্বেগ জানিয়ে সংখ্যালঘু ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সাথে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন , পেশাজীবিদের নিয়ে অান্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন এ কিউ এমসিরাজুল ইসলাম ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে শ্রদ্ধা জানাতে জানান কল্পনা চাকমা কে। উল্লেখ করেন, এই বাংলাদেশ সাঁওতাল গারোদের রক্তেও স্বাধীন হয়েছে। অনেক প্রতিকুলতার মধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হয়েছে, জঙ্গিদের ফাঁসি হয়েছে। সমস্যা শুধু পাহাড়ি অাদিবাসীদের সমস্যা না ১৬ কোটি মানুষের সমস্যা। এখন বাস্তবাযন না হলে অার কখনো হবে । জাতীয় ঐক্যের ডাক দেয়ার প্রস্তাব উঠে আসে । বক্তারা বলেন, সরকারকে বাধ্য করি, অাসুন। এটা শুধু বিধায়কের দায়িত্ব নয়, আমাদের সবার দায়িত্ব। ২০ বছর অাগে যে যৌক্তিকতা ছিল, এখনো একই যৌক্তিকতা অাছে। জাতীয়ভাবে সংলাপ হোক। জাতীয় ভাবে সমঝোতা করা হোক , তার বিকল্প নাই।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ৫২ সা্ল থেকে আন্দোলন ছিল একান্তই বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন । সাটের দশকে বুধদ্ধিজীবীদের বিচ্ছিন্ন লেখার কোথাও অাদিবাসীদের কথা দেখিনি । ৭২ এ মানবেন্দ্র লারমা সংসদে প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের অধিকার প্রশ্নে প্রতিবাদ করেন ।

১৩ টি অাদিবাসী আছে । ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা উচিত। ভূমিদস্যুদের দখল ব্যাধির মতো। কিছুতেই দমন করা যাচ্ছে না। ১৯৭১ এ ২২% হিন্দু , বর্তমানে ৮% র ও কম, , বনভূমির মতো উজাড় হয়ে যাচ্ছে । insurgency বন্ধ করা উচিত। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে গরিমসি করা হচ্ছে । কর্তৃত্ব হাতছাড়া হোক সামরিক বাহিনী চায় না। সকল সরকারই তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক রাখতে চায় । কেউ কেউ সরকারকে বোঝাচ্ছে অাদিবাসীর স্বীকৃতি দিলে জাতিসংঘ ঘোষিত স্বীকৃতি দিতে হবে।

যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তারা ভাবছেন MP হলে কিছু কাজ করতে পারবেন। কন্ট্রাক্টরি পাওয়া যাচ্ছে, যাবে, কিছু লোকের চাকরি হবে, এলাকার কিছু উন্নয়ন হবে । কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান এভাবে হবে না । আওয়ামী লীগ এখন হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য করছে, জামাতের লোক ঢুকাচ্ছে , যা পাকিস্তান অামলেও অামরা করি নাই। নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যারা অাদিবাসী নন, যারা বাঙালি, সকলকে প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার জন্যে কাজ করতে হবে।

সভাপতির ভাষণে তাপস হোড় বলেন, সরকারের ভেতরেও সরকার থাকে। চুক্তি বাস্তবায়নে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অান্তরিকতা দেখিনি, রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষা হচ্ছে , দেশের সঙখ্যালঘুদের বিতাড়নের চেস্টা হচ্ছে । ১৯৪৭ সালের পর থেকে প্রায় ৩ কোটি সংখ্যালঘু দেশছাড়া। যারা ক্ষমতাতে ছিলেন, তাদের কি দায়িত্ব ছিলনা? জনসঙহতি সমিতির মেয়েরা মাস্টারদা সূর্যসেন, ইলা মিত্র, প্রীতিলতার জীবনী পড়তে চায়। ৩০০ পরিবারের বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, তারা খোলা অাকাশের নীচে ৩ মাস। ঘরবাড়ি পুনর্নির্মান করে দিতে হবে। অাগামী পার্লামেন্টে ঐক্যবদ্ধ হযে প্রার্থী ঘোষনা করা হবে। অাগামী নির্বাচনে অামাদের প্রতিনিধিত্ব দিতে হবে। যারা সংখ্যালঘুদের জমি দখল করেছে, তাদের নমিনেশন দেবেন না। দিলে অামরা নির্বাচন বর্জন করবো।

 

 

 

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

eleven + eleven =