সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ ছিলেন সৎ এবং অপোষহীন – ইকবাল সোবহান চৌধুরী

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

নিজস্ব প্রতিবেদক:বস্তুুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে আলতাফ মাহমুদ আপোষহীন নেতা ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। আলতাফ মাহমুদ সাংবাদিকদের  চিকিৎসা , চাকুরি এবং কোনও সমস্যায় পাশে থেকেছেন আমৃত্যু ।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে (ডিআরইউ) প্রয়াত সাংবাদিক আলতাফ মাহমুদ স্মরণে আয়োজিত ‘স্মরণসভায়’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আলতাফ মাহমুদের সাংবাদিক জীবনে খুব ভাল কোনও গণমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ হয়নি। কিন্তু তার সমস্যা কাউকে শেয়ার করেন নি। খুব ঘনিষ্ঠ কেউ তার নিকট থেকে জানার চেষ্টা করলে হয়তো বলতেন।

তিনি বলেন, আলতাফ মাহমুদ বরিশাল থেকে লঞ্চে করে এসেছিলেন যাওয়ার সময় (মৃত্যুবরণ করার) পর সবার শ্রদ্ধা নিয়ে হেলিকপ্টারে করে (লাশ) গেছেন।

ইকবাল সোবহান বলেন, আলতাফ মাহমুদ ছিলেন একজন নির্ভীক ও সৎ সাংবাদিকতার প্রতীক। সাংবাদিকতাকে অনেকে বিত্ত-বৈভব অর্জনের উপায় হিসেবে বেছে নিলেও তিনি সেটা তিনি করেননি। তার নেতৃত্ব অনুকরণীয়। তার শুন্যতা পূরণ হবার নয়।

ডিআরইউ সভাপতি জামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিআরইউ সাবেক সভাপতি মোস্তাক হোসেন, শাহেদ চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজে‘র যুগ্ন মহাসচিব পুলক ঘটক, সাংবাদিক নেতা শাহজাহান মিয়া, মাহমুদুর রহমান খোকন, স্বপন দাশগুপ্ত, যুগ্ম সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল প্রমুখ।

ডিআরইউ‘র সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে প্রয়াত এই সাংবাদিক নেতার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ডিআরইউ আয়োজিত স্মরণসভায় আলতাফ মাহমুদের স্মৃতি ধরে রাখতে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়।

চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন বিএফইউজের সভাপতি আলতাফ মাহমুদ। তিনি ডিআরইউর সিনিয়র সদস্য ছিলেন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, আলতাফ মাহমুদ সৎ সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন আর্থিক সংকট, চাকুরির সংকট থাকা সত্ত্বেও কিভাবে নীতি-নৈতিকতা মেনে সাহসী সাংবাদিকতা করা যায়। আমৃত্যু সাংবাদিকদের যে কোনো সমস্যায় তিনি ছুটে গিয়েছেন, তার পাশে থেকে সমবেদনা জানিয়েছেন; সাহস জুগিয়েছেন। এখান থেকে কিছুটা হলেও সবার শিক্ষা নেওয়া দরকার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আলতাফ মাহমুদ

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আলতাফ মাহমুদ ছিলেন মানবিক মুল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। যা আমাদের এই ফোরামের শক্তি। ডিআরইউ, প্রেসক্লাব, ইউনিয়ন সবক্ষেত্রে আমরা তার অনুসর করবো। তা হলে আমাদের ভবিষ্যাৎ যে সকল সংগঠনের নেতৃত্ব দেব তাতে কমিটমেন্ট ঠিক থাকবে।

মনজুর আহসান বুল বুল বলেন, এখন সাংবাদিকরা সচিবালয়ে গেলে তদবির বাজ সাংবাদিক হিসেবে চিনে। কিন্তু আলতাফ মাহমুদ কখনই নৈতিকতার প্রশ্নে আপোষ করেননি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সর্বদা সোচ্ছার ছিলেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হলে বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সাংবাদিকদের এই গুনাবলী অনুসরণ করতে হবে।

ওমর ফারুক বলেন, সাংবাদিকতাকে অনেকে বিত্ত-বৈভব অর্জনের উপায় হিসেবে বেছে নিলেও আলতাফ মাহমুদ নেননি। তার আচরণ যেন ভিন্নমতের মানুষকে কষ্ট না দেয়, সেদিকে সব সময় তিনি খেয়াল রাখতেন। সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আলতাফ মাহমুদ আপোষহীন ছিলেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 + 10 =