সাংসদ লতিফের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করার অভিযোগে সংসদ সদস্য এম. এ. লতিফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন (আইসিটি)-এর ৫৭ ধারায় আরো দুটি মামলা দায়ের হয়েছে।

ঢাকা মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালতে আজ মঙ্গলবার মামলা দুটি দায়ের করা হয়। অবশ্য আদালত মামলা দুটি আদেশের জন্যে অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

লতিফের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি করেছেন যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি।  রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ. কে. এম. বেলায়েত হোসেন।

জাতির জনকের ছবি বিকৃতির অপরাধে লতিফের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার মানহানির অভিযোগ এনে ও ১,০০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে এম এ লতিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন সাবেক যুবলীগ নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি।  আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে উপ-কমিশনার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

একইদিন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহিম জিল্লু বাদী হয়ে লতিফের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেছেন।  মামলাটি তদন্তের জন্যে পুলিশের তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম. এ. লতিফের নামে নগরীর টাইগারপাস থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের রাস্তার দুপাশে বঙ্গবন্ধুর ছবি-সংবলিত পোস্টার লাগানো হয়। এসব পোস্টারে ফটোশপ কারিগরির মাধ্যমে এম. এ. লতিফের শরীরের ছবির উপর বঙ্গবন্ধুর মুখের ছবি সুপার ইম্পোজ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে আসা বিতর্কিত এই এমপি’র প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করছেন আ. লীগ নেতারা। পাকিস্তানি পোশাক-আশাকে সজ্জিত বঙ্গবন্ধুর এসব প্রতিকৃতি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়,  উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বন্দরনগরীর রাজনীতি। সেখানে এখন প্রতিদিনই ছাত্রলীগ-যুবলীগের পক্ষ থেকে জাতির জনকের ছবি বিকৃতির প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এম. এ. লতিফ ইতিপূর্বে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির বিষয়টি স্বীকার করলেও নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, যাদের তিনি পোস্টার তৈরি করতে দিয়েছিলেন, তারাই হয়তো দুর্বৃত্তদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবং তাঁকে বিপদে ফেলতে এমন কাজ করেছে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 2 =