‘সাম্প্রদায়িকতাকে পরাস্ত করতেই হবে’ -জ্যোতি বসু

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

(জ্যোতি বসুর ইমেজের ওপর ভর করেই পশ্চিম বাংলায় তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকেছে বামফ্রন্ট। এক সময় নিজের ইচ্ছায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিয়েছেন। মানুষ মানতে চায়নি। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সর্বভারতীয় রাজনীতিতেই অনুকরণীয়, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব জ্যোতি বসু। তিনি বলে গেছেন, ”মানুষ, একমাত্র মানুষই ইতিহাস রচনা করে। এটা ঠিকই যে মানুষ কখনো কখনো ভুলও করে। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষের জয়ই অবশ্যম্ভাবী।”পৈত্রিক বাড়ি বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বারদিতে। মার দিক থেকে দাদুর বাড়িও বারদি। মায়ের পরিবার ছিল অবস্থাপন্ন তালুকদার। সে তুলনায় বাবা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের।বাবা, নিশিকান্ত বসু, ডিব্রুগড় মেডিকেল স্কুল থেকে ডাক্তারি পাস করেছিলেন। তারপর ঢাকায় কিছুদিন প্র্যাকটিস। তারপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান আমেরিকায়। ছয় বছর ছিলেন সেখানে। আমেরিকায় কিছুদিন চাকরি করে ফিরে এলেন দেশে, বিদেশি ডিগ্রি নিয়ে। বাবা নিশিকান্ত বসু, ছেলে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন ব্যারিস্টার হবার জন্য। ছেলে ফিরেছিলেন কমিউনিস্ট হয়ে। আর পেছন ফিরে তাকাননি। জ্যোতি বসুর জন্মশতবার্ষিকীতে তার তার বলে যাওয়া কিছু কথা নিচে পুনঃমুদ্রিত হলো, যা কি বাংলাদেশ কি ভারতে এখন খুব ই প্রাসঙ্গিক, ইন্টারনেট,  পত্রিকাআর্কাইভ থেকে সংকলিত)

”স্বাধীনতার এত বছর পর বি জে পি-র মতো সাম্প্রদায়িক একটা দল যে ভারতবর্ষে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা আমরা আগে কখনও ভাবতে পারিনি। এই দলটি ক্ষমতায় থাকার ফলে দেশের তথা দেশের মানুষের যে কত ক্ষতি হচ্ছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ ধর্মবিশ্বাসী। আমাদের দেশের সংবিধানেও ধর্মাচরণের অধিকার স্বীকৃত। সেখানে এটাই বলা আছে যে মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাসমতো ধর্মপালন করতে পারবে। সেইসঙ্গে সংবিধানে ভারতকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কিনা রাষ্ট্রের কোনও ধর্ম নেই। রাষ্ট্র কোনও ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ করবে না, ধর্মের ভিত্তিতে কারোর প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা অবিচারও করবে না। আবার সংবিধান অনুযায়ী কোনও নাগরিকের নাস্তিক থাকারও অধিকার আছে।

প্রকৃতপক্ষে কোনও ধর্মেই একথা বলা নেই যে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করতে হবে, নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য মন্দির-মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। ইসলামে একথা নেই, খ্রিস্টধর্মে বৌদ্ধ ধর্মে, জৈন ধর্মে কোথাও নেই। হিন্দু ধর্মেও নেই। হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন সময়ে অনেক ধর্মগুরুর আবির্ভাব হয়েছে। তাঁরা কখনও অন্য ধর্মকে আঘাত করার কথা বলেননি। বরং তাঁরা সহনশীলতা, মানবিকতার বাণীই প্রচার করেছেন। সত্যি কথা বলতে কি আমাদের এই বহু ভাষা, বহু বৈচিত্রের দেশের যে বৈচিত্রপূর্ণ সংস্কৃতি তা হিন্দু-মুসলমান-খ্রিস্টান-জৈন-বৌদ্ধ-শিখ প্রভৃতি নানা ধর্মের আদান-প্রদান ও এমনকি যৌথ প্রচেষ্টার দ্বারাই পুষ্ট হয়েছে। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য — এই হলো আমাদের দেশ।

কিন্তু বি জে পি হলো এমন একটা দল যারা না মানে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে, না মানে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ধারণাকে। ওরা বিশ্বাস করে ‘হিন্দুত্বের’ ধারণায়, যার সঙ্গে প্রকৃত হিন্দু ধর্মের কোনই মিল নেই, হিন্দুত্বের ধারণা অনুযায়ী এদেশটা কেবলমাত্র হিন্দুদের, অন্য ধর্মাবলম্বীরা এদেশে যদি থাকেন, তবে থাকবেন হিন্দুদের পদানত হয়ে। তাই মুসলিম, খ্রিস্টানরা ওদের আগ্রাসনের শিকার। আসলে বি জে পি হলো আর এস এস পরিচালিত। আর এস এস হলো একটি উগ্র হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠন। ওরা ফ্যাসিস্ত মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে একসময়ে ওদের সঙ্গে ফ্যাসিস্তদের যোগাযোগ ছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনে এই আর এস এস-র কোনও ভূমিকাই ছিল না। বরং ওরা ব্রিটিশদের তাঁবেদারিই করে এসেছে। মনে রাখা দরকার গান্ধীজীকে হত্যা করেছিল যে লোকটি অর্থাৎ সেই নাথুরাম গডসে ‘হিন্দুত্ব’ ধারণার দ্বারাই প্রভাবিত ছিল।

কীভাবে বি জ পি এদেশে তাদের প্রভাব বিস্তার করতে সমর্থ হলো সে আলোচনায় এখানে যাচ্ছি না। এ নিয়ে গবেষণা হচ্ছে ও আরও হবে। রামরথ যাত্রা ও ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে কীভাবে বি জে পি তার সাম্প্রদায়িক বিষ সারা দেশে ছড়িয়ে দিল তা সকলেরই মনে আছে। রামরথ যেসব জায়গা দিয়ে গিয়েছিল প্রায় সর্বত্র দাঙ্গা হয়েছিল আমি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না।

তবে দেশের মানুষ সকলেই যে সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে বি জে পি-কে সমর্থন করেছিলেন এমনটা নয়। বরং কংগ্রেসের অপশাসনে ও দুর্নীতিতে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কিছু মানুষ ভেবেছিলেন যে বি জে পি-কে একটা সুযোগ দিয়েই দেখা যাক না। ক্ষমতায় এলে ওরা হয়তো দায়িত্বশীল হবে। আমরা অর্থাৎ বামপন্থীরা তখন থেকেই বলেছিলাম যে এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বি জে পি ক্ষমতাসীন হলে এদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিপদ বাড়বে। ধর্মকে ব্যবহার করে ওরা রাজনৈতিক সুবিধা তুলবেই। মানুষে মানুষে ওরা বিভেদ বাড়াবেই।

আমাদের আশঙ্কা যে সত্যি তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হলো গুজরাট। সেখানে বি জে পি পরিচালিত নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে যেভাবে শতশত সংখ্যালঘুকে হত্যা করা হলো, যেভাবে তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হলো, যেভাবে লুটপাট করা হলো স্বাধীন ভারতে তা নজিরবিহীন। এমনকি মহিলা ও শিশুরাও ওদের অত্যাচার থেকে রেহাই পায়নি। একাজে কেন্দ্রীয় সরকারেরও মদত ছিল। একথা ঠিক যে গোধরা রেল স্টেশনে যে রেলযাত্রীদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল তা ছিল বর্বরোচিত। এ ঘটনার নিন্দা করার ভাষা নেই। যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

কিন্তু তারপরে গোধরার প্রতিহিংসা বলে গুজরাটজুড়ে বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরঙ দল যা করলো তাতে গোটা পৃথিবীর সামনে ভারতবর্ষের মানসম্মান ধুলায় লুণ্ঠিত হলো। অথচ এ জাতীয় কাজের জন্য তাদের কোনও অনুশোচনা নেই, বরং তারা প্রকাশ্যে গর্বপ্রকাশ করছে। হাজার হাজার শরণার্থী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। আজও তাদের ঘরে ফেরানোর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি নরেন্দ্র মোদী সরকার। শুধু তাই নয় গুজরাটজুড়ে তারা যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়েছে তার থেকে রাজনৈতিক সুবিধা তুলতে বিধানসভা ভেঙে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের সুপারিশ করে। অথচ সেখানে আজ এমন অবস্থা যাতে অসংখ্য মানুষ এখনও ঘরছাড়া। ভোট দেওয়া তো দূরের কথা, তাঁরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতেই পারেননি। এই দাঙ্গা হাঙ্গামার ফলে শুধু যে সংখ্যালঘুরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা নয়, হিন্দুরাও বিপদে পড়েছে। গুজরাটের ব্যবসা-বাণিজ্যেরও যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে। যখন বি জে পি বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল, তখন ওদের এই কাজকে ‘অসভ্য ও বর্বর’ বলে আমি বর্ণনা করেছিলাম। সেদিন অনেকে আমার বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ বলেছিলেন, এতটা বলা কি ঠিক হচ্ছে? আমি বলেছিলাম, আমি তো কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে বলিনি, ওদের কাজটাকে বলেছি। গুজরাটের ঘটনার পরে তো বলতে হয় আমি সেদিন ঠিকই বলেছিলাম। গুজরাটেও যা হয়ে গেল তা অসভ্যতা-বর্বরতা ছাড়া আর কী?

সুখের কথা যে এদেশে নির্বাচন কমিশন গুজরাটের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সে রাজ্যে এখনই নির্বাচনের আয়োজন করতে রাজি হয়নি। কমিশন যা ইঙ্গিত দিয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে সামনের বছরের গোড়ার দিকেই হয়তো গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচন হবে। কিন্তু এক্ষেত্রেও লক্ষণীয় যে কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ভালভাবে মেনে নেয়নি। তারা রাষ্ট্রপতি মারফত সুপ্রিম কোর্টের কাছে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আবেদন করেছে। বস্তুত এর দ্বারা কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বকেই খাটো করলো। শুধু তাই নয় নরেন্দ্র মোদী মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো উচ্চপদে আসীন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রকাশ্যে যে ধরনের রুচিহীন, কুৎসিত মন্তব্য করলেন, তাতে বোঝা যায় এদের মানসিকতা কী।

আজ যখন এ লেখা লিখছি তখন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘গৌরবযাত্রা’ শুরু হয়েছে। এ সেই রামরথ যাত্রার মতই ব্যাপার। সারা দেশের প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দল এমনকি মানবাধিকার কমিশনও এই গৌরবযাত্রা বের করার প্রশ্নে নরেন্দ্র মোদীকে বারণ করেছিল। কিন্তু মোদী তা শেনেননি। এমনিতেই গুজরাটে পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। গৌরবযাত্রাকে কেন্দ্র করে নতুন করে গন্ডগোল বেধে যাবার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। লক্ষ্য করছি যে গৌরবযাত্রা থেকেই নরেন্দ্র মোদী বিশেষত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কুৎসিত এবং প্ররোচনামূলক ভাষণ দিচ্ছেন। একটি রাজ্যের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী যে এরকম করতে পারেন তা আমাদের কাছে অকল্পনীয়। আইনের শাসন বলে যদি কিছু থাকে তবে তার দ্বারা অবিলম্বে তাঁকে এইসব আপত্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত করা উচিত।

তবে এরই মধ্যে কিছু আশার আলোও দেখতে পারছি। আমাদের দেশের সংবাদপত্র তথা প্রচারমাধ্যম সম্পর্কে আমাদের অনেক অভিযোগ আছে। কিন্তু গুজরাটের ঘটনায় দেখলাম এদেশের বড় বড় সংবাদপত্রগুলি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক সাংবাদিক অত্যাচারের বর্ণনা ও ছবি পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। যা খবর পাচ্ছি তাতে আর দেশ থেকে বহু মানুষ, বহু সংগঠন নিজ উদ্যোগে গুজরাটে গেছেন ও গুজরাটের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি গর্ব করে বলতে পারি পশ্চিমবঙ্গের মানুষও পিছিয়ে নেই। বিশেষত বামফ্রন্টের নেতৃত্বে এ রাজ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গুজরাটের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অর্থসাহায্য সংগৃহীত হয়েছে। সেই অর্থের কিছু ক্ষতিগ্রস্তদের পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বাকিটা হবে। পৌঁছানো হয়েছে অনেক ওষুধপত্র বলতে পারি, আমাদের রাজ্য এ বিষয়ে নিজ ঐতিহ্য অটুট রেখেছে।

এই প্রসঙ্গে বলতে চাই যে গুজরাটের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (তা‍‌ সে যখনই হোক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে বি জে পি-কে পরাস্ত করা খুবই জরুরি। শুধু গুজরাটের স্বার্থে নয়, গোটা দে‍শের স্বার্থে। আর এস এস এবং তাদের গৈরিকবাহিনী গুজরাটকে তাদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ল্যাবরেটরি বানিয়েছে। ওরা যদি এই নির্বাচনে সফল হয় তবে গোটা দেশে কী পরিমাণ তাণ্ডব করবে তা বলাই বাহুল্য।

দুর্ভাগ্যবশত গুজরাটে বামপন্থীদের শক্তি খুবই দুর্বল। তাই আমরা বলছি বি জে পি-কে পরাস্ত করতে ঐ রাজ্যে সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একত্র করতে হবে। এজন্য কোনও মঞ্চ গঠনের প্রয়োজন নেই। যা প্রয়োজন তা হলো বি জে পি প্রার্থীর বিরুদ্ধে একজনই বিরোধী প্রার্থী থাকবেন, যাতে ভোট ভাগাভাগি না হয়। আমার মনে হয় গুজরাটে যতই খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হোক না কেন গুজরাটের নির্বাচনে বি জে পি-কে পরাস্ত করা সম্ভব। ওরা মনে করছে ওরা কেবলমাত্র ‍‌হিন্দুদের ভোট পেয়েই ক্ষমতায় এসে যাবে। কিন্তু সমস্ত হিন্দু কেবল বি জে পি-কেই ভোট দেবেন এমন মনে করার কারণ নেই। কারণ আগেই বলেছি। গুজরাটে সাম্প্রতিক গণহত্যা, দাঙ্গা, লুঠতরাজে শুধু মুসলিমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, হিন্দুরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বি জে পি-র সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি এতেই থেমে নেই। ওরা দেশজুড়ে শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলি কবজা করছে। আর এস এস-র নেতাদের সেখানে দায়িত্বে বসাচ্ছে। বিদ্যালয় স্তরের পাঠক্রম বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ইতিহাসের পাঠক্রম পালটাতে ওরা খুবই উদ্যোগ ‍‌নিয়েছে। ওরা ওদের বিকৃত, সাম্প্রদায়িক, মনগড়া ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে ঢোকাতে চায়, যাতে শিশু-কিশোরদেরই মন বিষিয়ে দেওয়া যায়।

গোড়াতেই বলেছি বি জে পি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার ফলে দেশের ও দেশের মানুষের কত ক্ষতি হচ্ছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

ধর্ম এবং রাজনীতিকে কখনো মেশাবেন না। এটা মেশালে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমাদের যে সংবিধান আছে তা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের। তার জন্য আমরা গর্বিত। আমাদের অনেক প্রতিবেশী রাষ্ট্র আছে, আমাদের রাষ্ট্র তাদের মতো নয়। সেখানে কোনো একটা ধর্ম আছে, সেটা কোনো একটা ধর্মের রাষ্ট্র। আমরা সেটা চাই না। ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ হতে পারে না, যে যার ধর্ম পালন করবেন এই অধিকার আমাদের সংবিধানে আছে।

কিন্তু রাম জন্মভূমি এবং বাবরি মসজিদ নিয়ে কিছু সংগঠন ধর্ম আর রাজনীতিকে মিশিয়েছে। ধর্ম আর রাজনীতিকে মেশালে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
আমাদের রাষ্ট্র যে ধর্মনিরপেক্ষ সেটা বি জে পি মানতে রাজি নয়। ওরা বলছে ৫০০ বছর আগে মুঘলরা মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করেছিলো। যদি তাই ঘটে থাকে, তাহলে সেটা কী ঠিক কাজ হয়েছিলো? আমি একথাই ওদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। ওরা বললো, না এটা অসভ্যতা, বর্বরতা। এখন তো সেই অসভ্য বর্বর কাজ ওরাই করছে।

বিজেপি বহু বৈচিত্র্যের দেশ ভারতের সংস্কৃতি, ভারতের দীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহ্য এবং ইতিহাস সবকিছু ধ্বংস করতে উদ্যত।রাষ্ট্র ও রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে মিশিয়ে মানুষকে বিপথগামী করতে চায় ওরা। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষ ভাগ হলে শ্রমিক,কৃষক,ছাত্র,যুব,মহিলা সংগঠনগুলির কি হবে? মানুষ এক হয়ে দাঁড়াতে পারবে না মুষ্টিমেয় বৃহৎ-পুঁজিপতি-ভূস্বামীদের শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে।মজুর-কিষাণের রাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে পরাস্ত করতে হবে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে। রক্ষা করতে হবে ভারতের ঐক্য-সংহতিকে।

আমরা বিশ্বাস করি, যে মানুষই ইতিহাস রচনা করেন। তাঁদের ওপর আমাদের দৃঢ় আস্থা। তাঁর কখনো কখনো ভুল করলেও শেষ পর্যন্ত সঠিক পথ বেছে নেবেন। রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সংগ্রাম আন্দোলনের পাশাপাশি, আমাদের অভিমত হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদী, অগণতান্ত্রিক এবং সাম্রাজ্যবাদপন্থী শক্তিগুলির বিরুদ্ধে মতাদর্শগত সংগ্রাম জরুরী।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 + 3 =