সিলেটের জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ ধ্বংসে ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’: নারী ও শিশুসহ ১৯ জন উদ্ধার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ আতিয়া মহলে অভিযান শুরুর পর সেই বাড়ি থেকে নারী ও শিশুসহ ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে অভিযান শুরু করে সেনা কমান্ডোরা।
এসময় সেখান থেকে গণমাধ্যমকর্মীসহ আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকাল ১০টার দিকে আতিয়া মহলে আটকে পড়া লোকজনের মধ্যে প্রথমে চার নারীকে বের করে আনা হয়। তারা জানান, এরপর শিশুসহ ৯ জনকে বের করে আনা হয়। পরে দুই শিশুসহ আরও ছয়জনকে উদ্ধার করা হয়। সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমা থানার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গি দমন অভিযান’অপারেশন স্প্রিং রেইন’ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় সেনা বাহিনীর প্যারা কমান্ডো বাহিনী,সোয়াত এবং সিসিটিসি ইউনিটের সমন্বয়ে এই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছে ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’। অভিযানে নেতৃত্ব দিতে রাত চারটার দিকে সিলেটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের সাঁজোয়া যান ও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।

আতিয়া মহলে প্রবেশ পথে পুলিশের ব্যারিকেড
আতিয়া মহলে প্রবেশ পথে পুলিশের ব্যারিকেড

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আরামবাগের এক আস্তানা থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানার খবর পান গোয়েন্দারা। পরে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্যে বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়। ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা (সিটিটিসি) এই জঙ্গি আস্তানার বিষয়টি সিলেটের পুলিশকে অবহিত করে। সিটিটিসির ডিসি মহিবুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন বলেন, আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়েছি। এখন অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর দুটি গাড়ি ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া সে সময় সাংবাদিকদের জানান, পুলিশকে সহায়তা করতে সেনাসদস্যরা এসেছেন।গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁর জঙ্গি দমন অভিযানেও অংশ নিয়েছিলেন সিলেটের জালালাবাদ থেকে যাওয়া সেনাবাহিনীর কমান্ডো দল।

সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনীর সদস্যরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেছেন। বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ,সোয়াতসহ প্যারা-কমান্ডো সদস্যরা।
চূড়ান্ত অভিযানের আগে সকাল ৭টার দিকে জঙ্গি আস্তানার আশপাশ থেকে লোকজনকে এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে মাইকিং করে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভবনটির গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় । অতিরিক্ত পুলিশ কশিনার জেদান আল মুসা বলেন, অভিযান শুরু হয়েছে। প্যারা কমান্ডো অভিযান চালাচ্ছে।

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শিববাড়ি এলাকায় ‘আতিয়া মহল’ নামে পাঁচতলা একটি বাড়ির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে নিশ্চিত হয় পুলিশ। জঙ্গি দমনে অভিযান চালাতে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত দল শুক্রবার বিকেলে সিলেটে পৌঁছায়। রাতভর সোয়াত ও স্থানীয় পুলিশ ৫ তলা বাড়িটি ঘিরে রাখে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে আতিয়া মহল বাড়ির ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয় বলে জানায় স্থানীয়রা। শুক্রবার দিনভর বারবার মাইকে আহ্বান জানিয়েও ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করাতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ভেতর থেকে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ সেই বাড়িটির পাশের সব বাড়ি খালি করে। কিন্তু সেই ভবনের নিচতলায় অবস্থানকারী জঙ্গিরা পুলিশের আহ্বানে সাড়া না দেয়াতে বাড়িটি খালি করা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিববাড়ির উস্তার মিয়ার ‘আতিয়া মহল’ নামের বাড়িতে তল্লাশির সময় নিচ তলা থেকে পুলিশ ও র‌্যাবকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে অভিযান শুরু করে বলে জানান সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রোকনউদ্দীন। বাড়ির মালিক উস্তার মিয়ার ছেলে রিপন জানান, জানুয়ারি মাসে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে দুজন ওই বাসার নিচতলায় ওঠেন। একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানান তারা।

আরেটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মুখে সিলেটবাসী। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা হলেও এই ১১ বছরে সিলেটে তেমন জঙ্গি তৎপরতা চোখে পড়েনি। জেএমবি প্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে টিলাগড়ের শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর সিলেটে সমন্বিত বাহানীর এটি দ্বিতীয় অভিযান।
এবার জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চলছে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি ‘আতিয়া মহল’ নামের বাড়িতে। সূর্যদীঘল বাড়ি অপারেশনের সময় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আতঙ্কে ছিলেন পুরো এলাকার লোকজন। এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন একটি ভবনের ২৭টি পরিবারের সদস্য।

শিববাড়ির পাঠানপাড়ায় পাঁচতলা ভবন আতিয়া মহলের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ‘জঙ্গিরা’ অবস্থান করছে_ এমন সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। ওই বাড়িসহ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে ভবনের ২৯টি ফ্ল্যাটে থাকা ২৭টি পরিবারের বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে মধ্যে। শিশু-নারীসহ আটকা পড়া বাসিন্দারা মোবাইল ফোনে তাদের উৎকণ্ঠিত স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

বাড়ির মালিক উস্তার মিয়া জানান, পাঁচ তলা ভবনের প্রতিটি তলায় ৬টি করে ইউনিট রয়েছে। এ ভবনে ২৭টি পরিবার বসবাস করে। শুক্রবার তারা সেখানে আটকা পড়ে। এর আগে পাশের আরেকটি চার তলা ভবনে বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয় পুলিশ। পুলিশ জানায়, কিছুদিন আগে এই এলাকায় বাড়ির মালিকের কাছে ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়। উস্তার মিয়া তার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে থানায় যে তথ্য জমা দেন,তাতে পুলিশের সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশ তল্লাশিতে গেলে ভেতর থেকে তাদের উদ্দেশ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
ঝড়বৃষ্টির মধ্যে সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলছে। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার একটু পরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান।

সকাল ১০টা ০৫ মিনিটের দিকে পরপর দুটি গুলির শব্দ শোনা গেছে। ওই এলাকার আশপাশ অনেকটাই অন্ধকার। সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে আশপাশের বাড়িতে টর্চলাইট খুঁজতে দেখা গেছে।

সেনাবাহিনীর আর্মি ইনটেলিজেন্সের ওই কর্মকর্তা সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের জানান, ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে এই অভিযান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হচ্ছে। পুলিশ ও সোয়াট সহায়তা করছে। সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা মূল অভিযান চালাচ্ছেন। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × three =