সিলেট ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ আপডেট, দুজন সেনা সদস্যসহ স্থানীয় এক বাসিন্দা আহত

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ অভিযান চলাকালে শনিবার বেলা দুইটার একটু পরে আবার গুলির শব্দ শোনা গেছে। এর আগে ওই বাড়ির প্রাঙ্গণে ঢুকেছে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান।

শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাড়ে ৩৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অভিযান চলছিল। অভিযানকালে দফায় দফায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে এলাকা প্রকম্পিত। বিকাল ৪ টা ৫৬ মিনিট থেকে পর পর তিনটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। গ্রেনেড বিস্ফোরণে দুজন সেনা সদস্য ও শিপলু নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে ।

আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারকাজ শেষ বলে বেলা সোয়া একটার দিকে জানিয়েছেন জালালাবাদ সেনানিবাসের ইনটেলিজেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা। এর আগে ‘আতিয়া মহল’ নামের পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাট থেকে আটকা পড়া ৩ অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৭৫ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের সদস্যরা।

জালালাবাদ সেনানিবাসের ইনটেলিজেন্স উইংয়ের কর্মকর্তা সকাল সাড়ে নয়টার একটু পরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরুর কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে এই অভিযান সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে হচ্ছে। পুলিশ ও সোয়াট সহায়তা করছে। সেনাবাহিনীর কমান্ডোরা মূল অভিযান চালাচ্ছেন। ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।

এছাড়া আতিয়া মহলের এক কিলোমিটারের মধ্যে সাংবাদিকসহ কাউকে অবস্থান করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আশপাশে রাখা হয়েছে সাজোয়া যান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি।

উল্লেখ্য, সিলেটের শিববাড়িতে আতিয়া ভিলায় অবস্থানকারী জঙ্গিদের মানসিকভাবে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্দেহজনক ফ্লোরে বিদ্যুৎ সংযোগ, পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল ।

সিলেটের শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহলে’ নব্য জেএমবির অন্যতম নেতা মাঈনুল ওরফে মূসা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য। ধারণা করা হয় নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরী, তানভীর কাদেরী, সারোয়ার জাহানের মৃত্যুর পর জঙ্গি সংগঠনটির হাল ধরেছেন মাঈনুল ওরফে মুসা। গত সেপ্টেম্বরে ঢাকার আজিমপুরে অভিযান শেষে মুসার বিষয়ে প্রথম তথ্য পায় পুলিশ। তবে আশকোনায় সূর্য ভিলায় পরিচালিত রিপল-২৪ অভিযানের পর মুসার বিষয়ে নিশ্চিত হয় আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 − four =