সীমান্ত চুক্তি বিল পাস নিয়ে জটিলতায় মোদি সরকার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বাংলাদেশ-ভারত স্থল সীমান্ত চুক্তি বিল পাস করা নিয়ে জটিলতায় পড়েছে মোদি সরকার।  অসমকে বাদ দিয়ে বিলটি সংসদে উত্থাপনে  বিজেপি সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক বৈরি সিদ্ধান্ত পাস হতে দেবে না কংগ্রেস। ফলে চুক্তিটি বাস্তবায়ন  আবারো জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে । জানা যায়, আসামের ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আপাততঃ এই রাজ্যকে সীমান্ত চুক্তির আওতার বাইরে রাখতে চাইছে বিজেপি। বিজেপি’র এই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস ।

স্থল সীমান্ত চুক্তি হলে ভারতের আসামের ২৬৮.৩৯ একর জমি বাংলাদেশকে  ফেরত দিতে হবে।  এর বিনিময়ে আসামের কিছু পাবার কথা নয়।  এই মুহূর্তে অসমকে এই চুক্তিতে শামিল করা হলে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হবে।  ২০১৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ১৪টির মধ্যে ৭টি আসন পায় বিজেপি । এই আসন গুলো ধরে রাখার জন্য সেখানকার রাজনৈতিক সুবিধা পেতে মোদী সরকার আসামকে চুক্তির বাইরে রাখতে চাইছে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে  আরো বলা হয় রাজ্যসভার বিরোধী দলীয় নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেছেন, বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল মনমোহন সরকার।  কিন্তু অসমের ভোটে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে আপাততঃ এই রাজ্যকে ওই চুক্তির আওতার বাইরে ফেলতে চাইছে বিজেপি।আজাদ আরও বলেন ‘বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সংকীর্ণ রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না কংগ্রেস। সরকারের মন্ত্রীদেরও এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।  ফলে  বিলটি পাস করা নিয়ে দেখা দিল জটিলতা।
সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু জানিয়েছিলেন, ৫মের পর বিলটি সংসদে পেশ করা হবে এবং চলতি অধিবেশনে তা পাস করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি। তবে সরকারি সূত্র থেকে বলা হয়েছিল বিলের আওতা থেকে অসমকে বাইরে রাখা হচ্ছে। আসামের বিধান সভার ভোটের কথা মাথায় রেখে এবং সেখানকার বিজেপি নেতাদের দাবি মেনে নিয়ে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতারা বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিজেপি যদি অসমকে বিল থেকে বাইরে রাখতে পারে তবে কংগ্রেসই বা ছাড় দেবে কেন।

এক্ষেত্রে তৃণমুলের সমর্থন মিলবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। তবে মমতা ব্যানার্জি ঢাকা সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্থল সীমান্ত চুক্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। মোদি সরকার তাই তৃনমূলের সমর্থন পাওয়া  নিয়ে আশাবাদী বলে পত্রিকার রিপোর্ট উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কংগ্রেসের কারণে তা অমসৃণ হয়ে পড়লো ।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ten − eight =