সুন্দরবনে বাঘের পেটে যেতে যেতে রক্ষা মৎস্যজীবীর

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

ভারতের পশ্চিম বঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালির বাসিন্দা অমৃত রায় শনিবার সকালে চার সঙ্গীকে নিয়ে সুন্দরবনের হেরোখালির জঙ্গলে মাছ আর কাঁকড়া ধরতে যান। আচমকাই পিছন থেকে তাঁর উপরে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে।

চার মানুষ বনাম এক পশুর লড়াই। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মানুষদেরই জয় হল। সেটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে অবশ্য চারজনের লড়াইটা একেবারেই সহজ ছিল না। কারণ, নিজেদের সঙ্গীকে বাঁচাতে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন চার মৎস্যজীবী।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালির বাসিন্দা অমৃত রায় শনিবার সকালে চার সঙ্গীকে নিয়ে সুন্দরবনের হেরোখালির জঙ্গলে মাছ এবং কাঁকড়া ধরতে যান। নৌকা থেকে নেমে নদীর পাড়ে মাছ ধরছিলেন তাঁরা। মাছ এবং কাঁকড়া ধরতে ধরতে বেলা হয়ে যায়। দুপুর ১টা নাগাদ ফেরার তোড়জোড় করার সময়ে আচমকাই পিছন থেকে অমৃতবাবুর উপরে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় থতমত খেয়ে গেলেও বাঘের গ্রাস থেকে অমৃতবাবুকে বাঁচানোর চেষ্টা শুরু করেন তাঁর চার সঙ্গী। বাঁশ, কাঁকড়া ধরার শিক  নিয়ে বাঘটিকে পাল্টা আক্রমণ করেন তাঁরা।

বেশ কিছুক্ষণ বাঘে-মানুষে লড়াইয়ের পরে অবশেষে রণে ভঙ্গ দেয় বাঘটি। অমৃতবাবুকে ছেড়ে জঙ্গলে ঢুকে যায় সে। গুরুতর আহত অমৃতবাবুকে নিয়ে এসে রাত আটটা নাগাদ বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন তাঁর সঙ্গীরা। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। তাঁর বুকে এবং পেটে আঘাত লেগেছে।

মৃত্যুমুখ থেকে ফিরলেও সুস্থ হয়ে আবার জঙ্গলে যাবেন বলেই জানালেন অমৃতবাবু। কারণ, স্ত্রী আর দুই সন্তানের সংসার চালানোর জন্যে মাছ আর কাঁকড়া না ধরে উপায় নেই।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + fifteen =