সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সরানো হলো গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের দাবির মুখে অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রিক দেবী থেমেসিসের ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ভাস্কর্যটি না ভেঙে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের অ্যানেক্স ভবনের সামনে পুনঃ স্থাপিত করা হবে।  বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভাস্কর মৃণাল হকের নেতৃত্বে ১৩ জন কর্মীসহ মোট ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক ভাস্কর্যটির ভিত ভাঙার কাজ শুরু করেন।  ভোর চারটায় এটি সরানোর কাজ শেষ হয়। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভাস্কর্যটি অপসারণ করতে হওয়ায় মৃণাল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। আমাকে চাপ দিয়ে এটা সরানো হয়েছে। আমাকে এটা সরানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর হয়তো ‘অপরাজেয় বাংলা’, রাজু ভাস্কর্য ও শেরাটনের সামনের ঘোড়ার গাড়ির ভাস্কর্য সরানোর নির্দেশ আসবে।’মৃণাল হক বলেন, আমেরিকায় আমি রাজকীয়ভাবে ছিলাম। নিউইয়র্ক সিটির বিউটিফিকেশনের দায়িত্বে ছিলাম। আমি সব ফেলে দিয়ে নিজের দেশে এসেছি।

সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে হাইকোর্ট বিভাগের সব বিচারপতির উপস্থিতিতে ‘ফুলকোর্ট’ সভা হয়। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন বিষয়ক একটি বিধি অনুমোদনের পাশাপাশি ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়।
বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশে ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা খাস কামরায় আমাকে ডেকেছিলেন। এসময় ড. কামাল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ সুপ্রিম কোর্টের বারের বর্তমান ও সাবেক দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।  প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে আমি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চাই না। এটি সরিয়ে নেয়া হোক এবং এমন জায়গায় স্থাপন করা হোক যেন প্রশ্ন না ওঠে। ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমরা প্রধান বিচারপতিকে বলেছি এবং ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়ার পক্ষে সবাই মত দিই।”

প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। হেফাজতের এই দাবির নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী এক বিবৃতিতে বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়ের সামনে গ্রিক দেবীর মূর্তি স্থাপন বাংলাদেশের গণমানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আদর্শিক চেতনার একেবারেই বিপরীত।  অবিলম্বে এটি অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় ইমান, আকিদা ও ঐতিহ্য রক্ষায় লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

রোজা শুরুর আগে এই ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিল ইসলামী সংগঠনগুলো। গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন এক দল ওলামার সঙ্গে গণভবনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি সরাতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিত নয়। আমি আপনাদের বলব, আপনারা ধৈর্য ধরেন। এটা নিয়ে কোনো হইচই নয়। একটা কিছু যখন করে ফেলেছে, সেটাকে আমাদের সরাতে হবে। সেটার জন্য আপনারা একটুকু ভরসা অন্তত রাখবেন যে এ বিষয়ে যা যা করার আমি তা করব।’

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four + 5 =