সেনাপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন পাকিস্তানী কিশোরীর

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

যে দেশে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো হয় না। বাধ্য করা হয় ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে পৃথিবীকে দেখতে। সেই পাকিস্তানেই কি না সেনাপ্রধান হওয়ার স্বপ্ন দেখল দুর্খানয় বানুরি (১৩)। দেশের প্রথম গার্লস ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী।

জঙ্গি অধ্যুষিত খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশের শহর মার্দান। রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে যার দূরত্ব ১১০ কিমি। সেখানেই রয়েছে মেয়েদের জন্য দেশের প্রথম ক্যাডেট কলেজ। এ বছরের গোড়ায় পথচলা শুরু করেছে কলেজটি। দেশের ক্যাডেট কলেজগুলি চালায় সরকার। শিক্ষকতার দায়িত্বে থাকেন সেনাবাহিনীর শিক্ষা শাখার আধিকারিকরা। এখান থেকেই পাশ করা উজ্জ্বল ছাত্ররা সেনাবাহিনী ও সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। এখান থেকে পাশ করা পড়ুয়াদের শীঘ্রই জমি ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছে সরকার। প্রসঙ্গত, এই খাইবার পাখতুনওয়াতেই তালিবান জঙ্গিদের শিকার হয়েছিলেন মালালা ইউসুফজাই।

স্কুলে পড়তে যাওয়ার অপরাধে বুলেট ফুঁড়ে দিয়েছিল তার মাথা।
সেই ক্যাডেট কলেজের ছাত্রী দুর্খানয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে। এমন একটা দেশের সেনাবাহিনী যেখানে লিঙ্গ সমতা একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন। পাকিস্তান এমন একটা দেশ যেখানে নারী স্বাধীনতা ঘর থেকে বাইরে পা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এমন একটা প্রদেশ পাখতুনওয়া, যেখানে রক্ষণশীলতাই হল প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সেই অঞ্চলের দুর্খানয়ের স্বপ্ন বড় হয়ে সেনাপ্রধান হওয়া। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ জেনে তার প্রশ্ন কেন পারব না? দুর্খানয়ের প্রত্যয়, ‘যখন একজন মহিলা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, বিদেশমন্ত্রী হতে পারেন, স্টেট ব্যাঙ্কের গর্ভনর হতে পারেন, তখন সেই মহিলা দেশের সেনাবাহিনীর প্রধানও হতে পারবে। আপনি দেখে নেবেন আমিই এটা করে দেখাব।’
দেশের কয়েকশো ছাত্র যখন এই সমস্ত ক্যাডেট কলেজে পড়ছে, তখন কাডেট কলেজের মতো ‘এলিট’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পড়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র মার্দানের এই গার্লস ক্যাডেট কলেজ। দুর্খানয়ের এই স্বপ্ন প্রসঙ্গে প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার নউরিন সাত্তি বলেন, এই ধরনের কলেজগুলি মেয়েদের সেনাবাহিনী, সিভিল সার্ভিস, ফরেন সার্ভিস বা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে সাহায্য করবে।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 5 =