সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার কমিটি বিলুপ্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল অমিন গ্রেফতার

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail
মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ছাড়া, ওই ঘটনার জের ধরে পর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার কমিটি বিলুপ্ত করেছে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা)।

শুক্রবার বিকেলে পৌরসভার তাকিয়া রোড এলাকার নিজ কার্যালয় থেকে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। একই দিন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার কমিটি বিলুপ্তর তথ্য নিশ্চিত করেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হোসাইন।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিনের ভাগনে মো. রানাসহ স্থানীয়দের মাধ্যমে রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম বিষয়টি জানা নেই উল্লেখ করে বলেন নুসরাত হত্যাকাণ্ডে পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ করছে।

এর আগে ১৪ এপ্রিল নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। তাদের জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২০ থেকে ২৫ জনের নাম প্রকাশ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর তিনি দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যান। বাইরে গিয়ে মোবাইল ফোনে বিষয়টি রুহুল আমিনকে জানান। প্রত্যুত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’

তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে এর পরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল অমিনকে নজরদারিতে রাখে ও ঘটনার সাথে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এদিকে নুসরাত অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই মাদ্রাসার সহসভাপতি রুহুল আমিন। অভিযোগের তীর বরাবরই তার দিকে থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ অভিযোগ করতে পারেননি। তবে এবার উঠে এসেছে তার নামটিও।

জানা যায়, ২৭ মার্চ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির পর রুহুল আমিন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। পরে জনরোষে তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন সোনাগাজী জিরো পয়েন্টে অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে কাউন্সিলর মকসুদ আলমের নেতৃত্বে যে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হয় তাতেও ইন্ধন দেন রুহুল আমিন।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হোসাইন জানান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. আহছান উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে পূর্বের ১৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্ত করে আগামী দুই এক দিনের মধ্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিম বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) সুজন চৌধুরীকে আহ্বায়ক  করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর হত্যাকাণ্ডে মাদ্রাসার কমিটির একাধিক সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য ও মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাউন্সিলর মকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। একই কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনকেও শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।


Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 3 =