স্বাধীনতা দিবসে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর উন্মুক্ত হচ্ছে

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Shadhinota Stombho Opening
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবারের স্বাধীনতা দিবসে উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর। ইতিহাসের নানান ঘটনার সাক্ষী রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয়েছে গ্লাস টাওয়ার বা স্বাধীনতা স্তম্ভ। আর ভূগর্ভে স্থাপিত স্বাধীনতা জাদুঘরের সজ্জাকরণ সম্পন্ন করেছে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

আজ থেকে দর্শনার্থীরা এখানে এসে প্রত্যক্ষ করবেন স্বাধীন বাংলাদেশের রক্তাক্ত জন্ম-ইতিহাসের সাক্ষীসমূহ।  বুধবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ভিআইপি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই জাদুঘর এবং স্তম্ভ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস এনডিসি, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান, স্বাধীনতা জাদুঘরের স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম প্রমুখ।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাঙালির জাতীয় জীবনে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের যে সুগভীর তাৎপর্য তার সাথে সঙ্গতি রেখে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও গগনচুম্বী আলোকরশ্মিমালার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর সাথে সংযোজন করা হয়েছে স্বাধীনতা জাদুঘর।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সরকার রুলস অব বিজনেস সংশোধনপূর্বক  স্বাধীনতা জাদুঘর এবং স্বাধীনতা স্তম্ভ পরিচালনার দায়িত্ব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অর্পণ করেছে। স্বাধীনতা জাদুঘর পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে জাতীয় জাদুঘরের অধিভুক্ত একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির প্রস্তাবও প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর মিলে একটি সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করা হচ্ছে। ৬৭ একর জমিতে পরিব্যপ্ত উদ্যানের কেন্দ্রস্থলে এর নির্মাণকাজ ২০১৪ সালে শেষ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ১৭৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এই বলয়ের মধ্যে রয়েছে ৫,৬৬৯ বর্গমিটার পাকা চাতাল বা প্লাজা, এর চারপাশে রয়েছে কৃত্রিম জলাশয়। রয়েছে জাতিসত্তার প্রতীক ‘শিখা চিরন্তনী’, স্বাধীনতা সংগ্রামকে ভিত্তি করে নির্মিত দেয়ালচিত্র বা ম্যুরাল। জাদুঘরে রয়েছে ১৫৫ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক মিলনায়তন। স্বাধীনতা জাদুঘরে বাঙালি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস আলোকচিত্রের মাধ্যমে ১৪৪টি প্যানেলে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে রয়েছে প্রায় তিনশ’র মতো আলোকচিত্র। রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণের টেবিলে অনুকৃতি স্থাপনা। এছাড়া লাইট অ্যান্ড শো-র ব্যবস্থা আছে। অডিও ভিজ্যুয়াল মিলনায়তনে নিয়মিতভাবে প্রদর্শন করা হবে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র।
নিরাপত্তা বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখানে মুক্তিযুদ্ধ, গণপূর্ত ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় যুক্ত আছে। তিন মন্ত্রণালয় মিলে এ উদ্যানকে কীভাবে সর্বসাধারণের উপযোগী করা যায় সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে নতুন করে আর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না। রমনা পার্ক, বাংলা একাডেমিকেও এ উদ্যানের সাথে যুক্ত করা হবে। এখানে সারাক্ষণ প্রহরার ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, চারুকলার শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে উদ্যানের প্রবেশপথে যে ‘ছবির হাট’কে আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে সুশৃংখলতা দেয়া হবে। শিশু পার্কের সাথেও একটা সংযোগ থাকবে, যাতে শিশু-কিশোররা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারে।
এছাড়া উদ্যানে গাইডরা থাকবেন, যারা পরিদর্শনের সময় দর্শনার্থীদের জানাবেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। গাইডদের প্রশিক্ষণ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন চ্যালেঞ্জ কীভাবে এ জাদুঘরকে সংগ্রহ দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করা যায়। বাংলাদেশে যতগুলো স্মৃতিসৌধ আছে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান করার চিন্তাভাবনা আছে।
স্বাধীনতা স্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘর উন্মুক্তকরণকে স্মরণীয় করে রাখতে এরপর উদ্বোধন করা হয় ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণহত্যা ১৯৭১’ শীর্ষক মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
স্বাধীনতা জাদুঘর খোলা থাকবে জাতীয় জাদুঘরের শিডিউল অনুযায়ী। প্রতি শনিবার থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেলে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার বিকেলে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার ও সরকারি ছুটির দিন এটি বন্ধ থাকবে। প্রবেশমূল্য মাথাপিছু দশ টাকা, ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য দুই টাকা।

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four + nine =